১১ জুন ২০২৬, ১৮:০৬

মেডিকেল ছাত্রছাত্রীদের জন্য আসছে শিক্ষা ও ব্যাংক ঋণ সুবিধা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ ধরনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে  © টিডিসি সম্পাদিত

২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এই বাজেটের আওতায় আরও দক্ষ চিকিৎসক গঠনে নানা উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজলভ্য করতে শিক্ষাঋণ ও  ব্যাংক ঋণ সুবিধা চালু করা হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনা এ সংক্রান্ত বাজেট উপস্থাপন করা হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইতোমধ্যে বাজেট উত্থাপন কালে এই উদ্যোগের কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজলভ্য করতে ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষাঋণ ও ব্যাংক ঋণ সুবিধা চালু করা হবে। এছাড়া বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গমনকারী মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিশেষ ব্যাংক ঋণ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর অগ্রযাত্রার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

তিনি আরও বলেন, মানসম্পন্ন, মানবিক ও আধুনিক চিকিৎসক তৈরির লক্ষ্যে এমবিবিএস শিক্ষার বর্তমান কারিকুলামে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হবে। এ লক্ষ্যে ইন্টিগ্রেটেড মডিউলার পদ্ধতি, আধুনিক ক্লিনিক্যাল শিক্ষাব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-ভিত্তিক চিকিৎসা জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করে এমবিবিএস কারিকুলামকে যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে একটি আধুনিক, দক্ষতা-ভিত্তিক ও ভবিষ্যতমুখী নতুন এমবিবিএস কারিকুলাম চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে বিডিএস ও অ্যালাইড হেলথ শিক্ষার কারিকুলামও হালনাগাদ করা হবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের সকল সরকারি মেডিকেল কলেজকে আধুনিক, মানসম্মত ও শিক্ষাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। বিশেষভাবে পুরাতন মেডিকেল কলেজসমূহের একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি, হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ সুবিধাসমূহ আধুনিকায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকদের জন্য একটি নিরাপদ, উন্নত ও মানসম্পন্ন শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

মেডিকেল শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনস্থ অব্যবহৃত অবকাঠামো ব্যবহার করে ৫টি আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থী এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের গ্রামীণ বাস্তবতা ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে কমিউনিটি মেডিসিন শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বাধ্যতামূলক গ্রামীণ আবাসিক প্রশিক্ষণ (আরিএফএসটি) কার্যক্রম পরিচালনায় এসব অবকাঠামো ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের মধ্যে গ্রামীণ জনগণের স্বাস্থ্যচাহিদা সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান, মানবিক মূল্যবোধ ও সেবার মানসিকতা আরও শক্তিশালী হবে।