০৮ জুন ২০২৬, ২০:৫৯

ইন্টার্নদের নবম গ্রেডের বেসিক, ট্রেইনিদের প্রতি মাসে ভাতাসহ যে ৬ আশ্বাসে কর্মবিরতি স্থগিত

বৈঠকের ছবি  © সংগৃহীত

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নবম গ্রেডের বেসিকের সমপরিমাণ ভাতা এবং পোস্টগ্রাজুয়েট চিকিৎসকদের ইনক্রিমেন্ট ব্যতীত নবম গ্রেডের সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতসহ ৬ আশ্বাসে চলমান অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি স্থগিত করেছেন ইন্টার্ন ও পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে ট্রেইনি চিকিৎসকদের ভাতা প্রতিমাসে পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার (৮ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কনফারেন্স রুমে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ব্রিফ করেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য সচিব জানান, এফসিপিএস পার্ট ১ এবং এমডি-এমএস (ফেজ-১) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সকল বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থী ভাতা প্রাপ্য হবেন। এই ভাতা প্রতি মাসে পরিশোধ করা হবে। এ ছাড়া সরকারের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন কৌশলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন এবং পোস্ট গ্রাজুয়েট ডাক্তারদের বর্তমান প্রদত্ত ভাতা আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করা হবে। এক্ষেত্রে ইন্টার্নরা নবম গ্রেডের বেসিকের পরিমাণ ভাতা পাবেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী

তিনি জানান, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল পদ্ধতি অনুসরণ করে স্টেকহোল্ডারদের সাথে পরামর্শক্রমে বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর সুপারিশ করা হবে।

স্বাস্থ্য সচিব আরও জানান, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের (বিসিপিএস) এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভর্তি পরীক্ষার ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

এ ছাড়া বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক বা মেডিকেল কলেজে এন্ট্রি লেভেলে কর্মরত চিকিৎসকদের সম্মানজনক বেতন কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে অংশীজনের সাথে আলোচনা করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে সাত কর্মদিবসের মধ্যে এগুলোর যা যা অফিশিয়াল কাজকর্ম করা প্রয়োজন, আমরা করে ফেলব। আর ওনারা চলমান কর্মবিরতি এবং ওয়ার্ড ও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি স্থগিত করবেন। আজকের আলোচনার পর থেকে সাত কর্মদিবস পর্যন্ত কর্মবিরতি স্থগিত থাকবে। তারপরে আমরা প্রয়োজনে আবার কথা বলব। আমরা মনে করি আলোচনা যদি আমরা নিজেদের মধ্যে করি, তাহলে দূরত্বটা অনেক কমে আসে এবং সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

তিনি বলেন, আমাদের উদ্দেশ্যে হলো যে মানুষগুলো চিকিৎসা সেবার জন্য আসে তাদের যেন চিকিৎসা সেবা ব্যহত না হয়। এটার জন্যই আমরা সবাই উদ্যোগ নিয়েছি। একটা রোগীর চিকিৎসা সেবা পাওয়ার যে অধিকার, এটা তাদের কনস্টিটিউশনাল রাইট। এটা কারো দয়ার না, আমারও না আপনাদেরও দয়ার না। এটা হলো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সুতরাং আমরা কেউই এই অধিকার থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করতে পারি না। আমরা চাই আমাদের জনগণের চিকিৎসা সেবা যেন কোন ক্রমেই ব্যহত না হয়।

এ সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. নাবিল বিন কাশেম ও ঢামেক হাসপাতালের 
এফসিপিএস প্রশিক্ষণার্থী ডা. আব্বাস ভূঁইয়া কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য, বিকেল তিনটার পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কনফারেন্স রুমে বৈঠক শুরু হয়। এতে ১২ সদস্যের একটি ইন্টার্ন প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন— ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির (আইডিএস) সভাপতি ডা. মোস্তফা আমির ফয়সাল ও সাধারণ সম্পাদক ডা. নাবিল বিন কাশেম, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (এসএসএমসি) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) সদস্য সচিব ডা. আল মেয়ান শেখ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ (এসএইচএসএমসি) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস কমিটির (আইডিসি) সমন্বয়ক ডা. মো. ফজলে এলাহী তরুণ ও ডা. সাব্বির হোসাইন, মুগদা মেডিকেল কলেজ (মুমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) সাধারণ সম্পাদক ডা. তানজিম মাহফুজ মজুমদার, খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) সভাপতি ডা. আল আমিন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির (আইডিএস) সভাপতি ডা. তানভীর আহমেদ তৌকির, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) সভাপতি ডা. সাকিব হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ডা. জামান মোহাম্মদ নুরশাদ, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) সভাপতি ডা. মো. মিসবাহুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মুসফিকুল ইসলাম রাফিন।

এর আগে ৬ দফা দাবিতে রবিবার (৭ জুন) অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেন সারা দেশের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। শনিবার প্রতিটি ক্যাম্পাসে মানববন্ধনও করেন তারা। ইন্টার্নদের পাশাপাশি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনও চলছে। একইসঙ্গে আজ (সোমবার) কর্মবিরতি শুরু করেন পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা।

তাদের ৬ দফা দাবি হলো— এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নের নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা বাতিল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এবং বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের (বিসিপিএস) ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে আনা, নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী ইন্টার্নদের ভাতা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা ও ট্রেইনিদের ৯ম গ্রেডে নির্ধারণ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, বিসিএস স্বাস্থ্য চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর করা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য শ্রম আইন ২০০৬ মেনে সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো তৈরি করা।