১৮ মে ২০২৬, ২০:৫০

স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নসহ ৫ দফা দাবি টাঙ্গাইল মেডিকেল শিক্ষার্থীদের

চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ডা. নাসির ইসলামের ওপর রোগীর স্বজনদের হামলার প্রতিবাদে সমাবেশ করেছেন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ ও অতিরিক্ত রোগীর চাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

আজ সোমবার (১৮ মে) বেলা সাড়ে ১২টায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ডা. রোকনুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক ডা.বাদল উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে হাসপাতাল পরিচালক ও জেলা সিভিল সার্জনের কাছে ৫ দফা সম্বলিত একটি স্মারকলিপি তুলে দেন শিক্ষার্থীরা।

এগুলো হলো— দেশের সকল হাসপাতালে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, নিরাপত্তা জোরদারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধি করতে হবে, চিকিৎসক ও সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবল দ্রুত নিয়োগসহ অতিরিক্ত রোগীর চাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সমাবেশে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ডা. রোকনুজ্জামান বলেন, চিকিৎসকরা চিকিৎসাসেবা দেবেন। চিকিৎসক যেদিন চিকিৎসক হওয়ার নিয়ত করেন, সেই দিনই তাকে ১০০ নম্বর দেয়া উচিত। একটি সেবামূলক পেশায় আসবে— এমন সিদ্ধান্ত নেয়ায় তাকে পুরস্কৃত করা উচিত। আমরা ৫০০ শয্যার হাসপাতালে ২০০০ শয্যার রোগীকে সামাল দেই। এখানে মেধা, লজিস্টিক এবং সরকারের সহযোগিতার ব্যাপার রয়েছে। চিকিৎসক তো বাসা থেকে লজিস্টিক্স নিয়ে এসে সেবা দেবে না।

তিনি বলেন, চিকিৎসাকেন্দ্রে সেবা নিতে আসা রোগীর সাথে কয়েকটি ঘটনা ঘটতে পারে। প্রথমত অসুস্থ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে। দ্বিতীয়ত অসুস্থ রোগী আরও অবনতি হতে পারে, সেক্ষেত্রে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা যেতে পারে। আরেকটি হতে পারে যে, রোগীকে আর ফিরিয়ে নেয়া যাবে না, তিনি আল্লাহর কাছে চলেও যেতে পারেন। হাসপাতালে তো এটি ঘটবেই। এখন মৃত্যুর মতো অনিবার্যতা এলে আবেগের নিয়ন্ত্রণের ব্যাপার রয়েছে। চিকিৎসকের দায়িত্ব কী, এটা বুঝতে হবে।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি আরও বলেন, আমাদেরকে একটি সুন্দর পরিবেশ দিতে হবে, যেন আমরা নিরাপত্তাবোধ করি। ২৪ ঘণ্টা আমাদের নিরাপদ পরিবেশ দিতে হবে। আনসার ফোর্স দেয়ার কথা, অথচ এটির গতি অত্যন্ত শ্লথ। দ্রুতই এটি বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ সময় ৫ দফা দাবি উত্থাপন করে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদ উস সামাদ মাহিদ বলেন, সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের অতি সত্ত্বর গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই। ডাক্তাররা রোগীদের সেবা দিতে চায়, কিন্তু এভাবে ডাক্তারদের পিটিয়ে হাসপাতালে রাখতে চাইলে চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যাহত হবে।

সমাবেশে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ডা.বিশ্বজিৎ সরকার। তিনি বলেন, ডা. নাসির রোগীকে বাঁচানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। তারপরও যদি ভুল চিকিৎসা হয়ে থাকে, অভিযোগ থাকে, আপনারা আইনি পদক্ষেপ নেবেন। এভাবে হামলা করা যায় না। শয্যার তুলনায় ৫ গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকে। সুষ্ঠুভাবে কিভাবে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব?

উল্লেখ্য, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হার্ট অ্যাটাকে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাতে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামের উপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।