অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের স্বীকৃতি পেল সরকারি-বেসরকারি ৩ মেডিকেল কলেজ
বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (বিএমইএসি) স্বীকৃতি পেয়েছে সরকারি-বেসরকারি ৩টি মেডিকেল কলেজ। এগুলো হল— চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক), আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ (এএফএমসি) ও সিলেটের নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ। গতকাল বুধবার (৩০ এপ্রিল) বিএমইএসি রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. হুমায়ুন কবির তালুকদার স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি চিঠিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এর মধ্যে এএফএমসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একমাত্র সরকারি এবং নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ একটি বেসরকারি স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ দেশের পুরোনো সরকারি মেডিকেল।
এই তিন মেডিকেলের অ্যাক্রেডিটেশন প্রাপ্তির তথ্য নিশ্চিত করে বিএমইএসি রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. হুমায়ুন কবির তালুকদার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিএমইএসির নির্ধারিত নীতি ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী সকল মানদণ্ড পূরণ করার পর এ তিন প্রতিষ্ঠানের স্ব স্ব প্রোগ্রামকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের জন্য এই অ্যাক্রেডিটেশন সনদ বহাল থাকবে। আরও ৯টি সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এই স্বীকৃতির অপেক্ষায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিএমইএসি রেজিস্ট্রার বলেন, মেডিকেল কলেজগুলোর গুণগত মান বৃদ্ধিতে আমরা ডব্লিউএফএমইর নির্দেশনা অনুযায়ী মানদণ্ড নির্ধারণ করেছি। প্রতিটি মেডিকেলকে এর আওতায় আসতে হবে। এজন্য পৃথকভাবে তাদের আবেদন করতে হবে। এই স্বীকৃতি দেশের মেডিকেল শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ডব্লিউএফএমই (ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশন) এবং বিদেশের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ডিগ্রির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এ স্বীকৃতির গুরুত্ব অপরিসীম।
এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজকে (এসএইচএসএমসি) স্বীকৃতি দিয়েছিল অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল। নিয়ম অনুযায়ী, অ্যাক্রেডিটেশন স্বীকৃতি দেওয়ার আগে বিএমইএসির একটি প্রতিনিধি দল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ও শিখনের পরিবেশ যাচাই করে। তাদের প্রতিবেদন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের (ডব্লিউএফএমই) কাছে পাঠানোর পর সেখান থেকে একটি প্রতিনিধিদল এসে পুনরায় যাচাই করে। ডব্লিউএফএমইর ইতিবাচক সাড়া পেলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, বিএমইএসি হল একটি সরকারি সংস্থা যা দেশের চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন ও অ্যাক্রেডিটেশন (স্বীকৃতি) প্রদান করে, যার লক্ষ্য মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা। এই সংস্থাটি বাংলাদেশ চিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন আইন, ২০২৩ অনুযায়ী গঠিত হয়েছে।