০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২০:০০

এপ্রোন নয়, সাদা কাফনে বাড়ির পথে শেষ যাত্রা নওশিনের

বাম পাশে অর্পিতা নওশিন, শনিবার বিকেলে কুমিল্লা থেকে খুলনায় রওনা দিয়েছে তাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি (ডানে)  © টিডিসি সম্পাদিত

শিক্ষকের রোষানলে এক বিষয়ে পাঁচবার অকৃতকার্য হয়ে আত্মহনন করা অর্পিতা নওশিন শেষ বারের মতো ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন। আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লার বেসরকারি সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে খুলনায় নিজ বাড়ির পথে রওনা দেয় নওশিনের লাশ বহনকারী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স। তার ভাই শাহরিয়ার আরমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শাহরিয়ার আরমান বিকেলে জানান,  বিকেল সাড়ে ৪টার কিছুক্ষণ পর কুমিল্লা থেকে খুলনার উদ্দেশে রওনা দেন তারা। আগামীকাল ভোরে ফজরের নামাজের পর নিজ এলাকায় জানাযা ও দাফন সম্পন্ন করা হতে পারে।

জানা গেছে, অর্পিতা নওশিনের লাশ গ্রহণ করতে খুলনা থেকে তার ভাই শাহরিয়ার আরমান, ভাবি এবং স্থানীয় আত্মীয়-স্বজনরা এসেছিলেন। লাশ হস্তান্তরের আগে তার দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।

অর্পিতা নওশিন সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ সেশনের ছাত্রী। পরিবার ও তার বন্ধুদের অভিযোগ, প্রথম বর্ষে এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মনিরা জহিরের রোষানলে পড়েছিলেন নওশিন। ফলে প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় এনাটমিতে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এরপর তিন বছরে পরবর্তী ব্যাচগুলোর সঙ্গে ৪ বার এনাটমির পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রত্যেকবারই অকৃতকার্য হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ১০৯ পিস ঘুমের ওষুধ সেবন করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান নওশিন।

আরও পড়ুন: শিক্ষকের রোষানলে এক বিষয়ে ৫ বার ফেল, অভিমানে জীবনটাই দিয়ে দিলেন নওশিন

নওশিনের গ্রামের বাড়ি খুলনা সদরে। এক ভাই-এক বোনের মধ্যে অর্পিতা ছোট। খুলনার সরকারি করোনেশন গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি ও খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন কলেজ থেকে এইচএসসি দিয়েছিলেন নওশিন। এরপর সাদা এপ্রোনের মায়ায় পড়ে ভর্তি হয়েছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটিতে। কিন্তু চিকিৎসক না হয়েই সাদা কাফনে মুড়িয়ে বাড়ি ফিরছে নওশিনের নিথর দেহ।