২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৫২

রাজনীতি নিষিদ্ধ সত্ত্বেও নিজ হাতে ছাত্রদলের কর্মসূচি উদ্বোধন, শিবিরের ইফতারে নিষেধাজ্ঞা

রাজনীতি নিষিদ্ধ সত্ত্বেও ছাত্রদলের কর্মসূচি উদ্বোধন, শিবিরের ইফতার মাহফিলে নিষেধাজ্ঞা  © টিডিসি সম্পাদিত

পবিত্র রমজান উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ইফতার মাহফিলের ঘোষণা দেওয়ার পর রাজনৈতিক সভার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফারুক আহাম্মদ। বিভিন্ন সময়ে কলেজ ক্যাম্পাস ও হলে ছাত্রদল ও বিএনপির কার্যক্রম চললেও ছাত্রশিবিরের অনুষ্ঠান ঘোষণার পর হঠাৎ জরুরি নোটিশ দিয়েছেন তিনি। যদিও ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন তিনি নিজেই।

গত রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ঢামেক ক্যাম্পাসে ইফতার মাহফিলের শিডিউল ঘোষণা করে ছাত্রশিবির। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্যাম্পাসে আলোকসজ্জা করার কথা ছিল। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি ডা. আলিম হল ক্যান্টিনে ছাত্রীদের নিয়ে ইফতার ও মেহেদি উৎসব এবং পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের নিয়ে ইফতার মাহফিল করার কথা। কিন্তু সংগঠনটি ক্যাম্পাসে আলোকসজ্জার উদ্যোগ নিতে গেলে কলেজ প্রশাসন সেটি বন্ধ করে দেয়।

এর আগে গতকাল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সব ধরনের অনুষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নোটিশ দেয় অধ্যক্ষের দপ্তর। ‘বিষয়টি অতীব জরুরি’ বলেও উল্লেখ করা হয় নোটিশে। এতে বলা হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আউটসোর্সিং কর্মচারীদের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যতীত অফিসের ভবন ব্যবহার করে কোন পেশাজীবী, রাজনৈতিক কার্যক্রম বা কোন ব্যক্তি অথবা বহিরাগত সংগঠনের সাথে কোন রকম সভা, সেমিনার বা আলোচনা সভা করা যাবে না। এমতাবস্থায় বিষয়টি সকলকে যথাযথভাবে পালনের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হল।

ছাত্রশিবিরের কর্মসূচি শুরুর আগের দিন হঠাৎ এই নোটিশ দিয়েছেন অধ্যক্ষ 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট ঢামেকের একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। ওই দিনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস, শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি ছাত্রাবাস এবং ডা. আলীম চৌধুরী ছাত্রীবাসে সকল প্রকার ছাত্ররাজনীতি (ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, অন্যান্য এবং নতুনভাবে গঠিত কোন ছাত্র সংগঠন) স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে ও হোস্টেলে প্রকাশ্যে বা গোপনে পুনরায় ছাত্ররাজনীতি আনয়ন, চর্চা, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন ও তাতে অন্যদের আহ্বান এবং তাদের সমর্থনমূলক কর্মকান্ডে প্রচার/প্রচারণায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে, তার বিরুদ্ধে ক্যাম্পাস ও হোস্টেল থেকে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিব উদ্দিন রাকিবের নেতৃত্বে কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কর্মসূচি

একাডেমিক কাউন্সিলের এমন সিদ্ধান্তের পর ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখা না গেলেও দীর্ঘদিন ধরেই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ছাত্রদল। সংগঠনটির দৃশ্যমান কোনো কমিটি না থাকলেও বিভিন্ন সময়ে মিছিল ও সভা-সেমিনার করতে দেখা যায় নেতাকর্মীদের। এমনকি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারাও বিভিন্ন সময়ে নানা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। খোদ অধ্যক্ষ ফারুক আহাম্মদই গত ৮ নভেম্বর শাখা ছাত্রদলের একটি কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। এ ছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী বিএনপির বিজয় উদযাপন অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে তাকে।

গত বছরের ৮ নভেম্বর নিজে ছাত্রদলের কর্মসূচি উদ্বোধন করেন বর্তমান অধ্যক্ষ

এ বিষয়ে অভিযোগ করে ঢাকার সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘মেডিকেল জোন’ শাখার সেক্রেটারি ডা. জুলফিকার আলী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমাদের প্রোগ্রাম ঘোষণার পরে হঠাৎ করে গতকালকে নোটিশ দেয় কলেজ প্রশাসন। মূলত অধ্যক্ষকে দিয়ে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এই নোটিশ দিয়েছে।

তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও ছাত্রদল মিছিল-মিটিং করছে। তারা প্রকাশ্যে ক্যাম্পাসে মিছিল করছে, হলে মিছিল করছে। নির্বাচনের আগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে সভা করেছে। অথচ ওই সময়ে কলেজ প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ থাকার কথা। ছাত্রদল ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখা’ নাম ব্যবহার করেই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

বিএনপির ভূমিধ্বস বিজয় উদযাপন অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ নিজে উপস্থিত ছিলেন, তার পাশে বসে আছেন হাসপাতাল পরিচালক ডা. আসাদুজ্জামান

এই শিবিরনেতা আরও বলেন, ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে কোনো কার্যক্রম নেই। ক্যাম্পাসে আমাদের কমিটিও নেই। আমরা ক্যাম্পাসের বাইরে ছাত্ররাজনীতি করি। সেখানে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও একটি দলকে নিয়মিত সুযোগ প্রোগ্রাম করার সুযোগ দেওয়া হলেও পবিত্র রমজান উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমাদের গঠনমূলক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢামেকের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফারুক আহাম্মদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, মেডিকেল ক্যাম্পাসের সর্বত্র ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ। আজকে কিছু শিক্ষার্থী মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন যে একটি সংগঠন আগে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমরা তাদেরকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। প্রমাণ ছাড়া তো কিছু করা যায় না।

কলেজ ক্যাম্পাসে নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে ছাত্রদলের মিছিল

ক্যাম্পাসে দৃশ্যমান ব্যানার ও বিএনপি-ছাত্রদলের প্রকাশ্য সভা-মিছিল প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ব্যানার ওভাবে আমাদের নজরে পড়েনি। আর হয়ত বিক্ষিপ্তভাবে কেউ আসছে ক্যাম্পাসে, নির্দিষ্ট অভিযোগ দিতে হবে।