‘জানুয়ারির মধ্যেই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হচ্ছে ভাষা ও আইসিটি কোর্স’
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের আধুনিক বিশ্বের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী জানুয়ারির মধ্যে ভাষা শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা হবে। ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে দেশের আটটি বিভাগে আটটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করে এসব কোর্স পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
রোববার (৮ নভেম্বর) রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘দক্ষতাভিত্তিক মাদ্রাসা শিক্ষা ও কর্মসংস্থান: আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ড. মামুন বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্ব দিয়েছেন। এ জন্য শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করতে হবে। বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভাষা শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। এর মাধ্যমে তাঁরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন। এ লক্ষ্যেই আগামী জানুয়ারির মধ্যে এসব প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে সময়োপযোগী ও কর্মমুখী করতে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, যোগাযোগের সক্ষমতা এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে তাঁরা চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেদের গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরে ইউজিসি সদস্য বলেন, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে দেশের আটটি বিভাগে আটটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করে কোর্সগুলো পরিচালনা করা হবে। এতে বিভিন্ন অঞ্চলের মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগের প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে ভাষা শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ আরও সহজলভ্য ও বিস্তৃত হবে।
অধ্যাপক ড. মামুন আরও বলেন, আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সব ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমানভাবে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা গেলে শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, দক্ষ জনশক্তি ও উদ্যোক্তা হিসেবেও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা। এ লক্ষ্য অর্জনে অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, রোবটিকস, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি এবং উপাত্তবিজ্ঞানের মতো আধুনিক বিষয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশীয় সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান বের করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সেমিনারে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শাহীনুল ইসলাম এবং কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
সেমিনারে দক্ষতাভিত্তিক মাদ্রাসা শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আধুনিক বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী ভাষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।