০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:৫৯

৪ মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল অধিদপ্তর

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর  © ফাইল ছবি

শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ও প্রত্যয়নপত্র দাখিল, ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে চাকরি গ্রহণ এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে চার মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। এর মধ্যে তিন শিক্ষকের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ও প্রত্যয়নপত্র জাল ও ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের এমপিওভুক্তির ইনডেক্স কর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্য এক মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে ইনডেক্স কর্তন করে সরকারি কোষাগারে ৭৮ লাখ ২২ হাজার ৭৫ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এ সংক্রান্ত চারটি পৃথক চিঠি জারি করেছে।

চিঠি অনুযায়ী, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার চকপাড়া ওহাবুল উলুম আলিম মাদ্রাসার এবতেদায়ী প্রধান মো. মোফাজ্জল হোসেন, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সনমানিয়া দাখিল মাদ্রাসার এবতেদায়ী প্রধান মো. ইলিয়াস মিয়া এবং ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার টাংগাব ফাযিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক শামসুন্নাহার অনন্যার দাখিল করা শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ও প্রত্যয়নপত্রের তথ্যের সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সংরক্ষিত তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি।

এনটিআরসিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দাখিল করা সনদ ও প্রত্যয়নপত্র সঠিক নয়; বরং জাল ও ভুয়া মর্মে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে তাদের এমপিওভুক্তির ইনডেক্স কর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অধিদপ্তর।

অন্যদিকে, কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আমির হোসেনের বিরুদ্ধে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) অডিট প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের আদেশে তাঁর ইনডেক্স স্থায়ীভাবে কর্তন এবং অবৈধভাবে উত্তোলিত ৭৮ লাখ ২২ হাজার ৭৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 এতে আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের জাল সনদধারী আবেদন পাঠানোয় মাদ্রাসার প্রধানকে সতর্ক করা হলো। এসব শিক্ষকদের উত্তোলিত বেতন-ভাতাসহ সমুদয় অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে প্রমাণসহ অধিদপ্তরকে জানানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। উল্লেখ্য আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সরকারি কোষাগারে অর্থ ফেরত দিতে যে কোনো ধরনের শৈথিল্যে প্রতিষ্ঠান প্রধান সম্পূর্ণরূপে দায়ী থাকবেন।