০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৩৩

শিক্ষকদের ইএফটি কবে থেকে চালু হচ্ছে, জানাল মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর  © টিডিসি সম্পাদিত

এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে দিতে মাদ্রাসাহ এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (মেমিস) দিতে সফটওয়্যারের টেন্ডার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সফটওয়্যার তৈরির জন্য চুক্তি করা হতে পারে। চুক্তির তিন মাসের মধ্যে অর্থ্যাৎ ২০২৭ সালের এপ্রিল মাস থেকে শিক্ষকরা ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা পেতে পারেন বলে জানা গেছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২ জুন বদলি নীতিমালা প্রকাশ করা হলেও ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিত (একনেক) মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি সফটওয়্যার প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে ইএফটি, ইএফটি ইনটেগরেশন গেটওয়ে (এপিআই, আইবিএএস++এনআইডি ও বিটিআরসি), মাদ্রাসা পে বিল, অনলাইন এমপিও ইনফরমেশন কারেকশন শিক্ষক ট্রান্সফার অটোমেশনসহ মোট ১৮টি মডিউল নিয়ে সফটওয়্যারটি তৈরি হচ্ছে। 

বর্তমানে সফটওয়্যায়ের ট্রামস অফ রেফারেন্স (টর) প্রক্রিয়া শেষ হয়ে টেন্ডার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চলতি মাসের ৭ অক্টোবর (বুধবার) সকাল ১০টার মধ্যে টেন্ডার জমা দেওয়া হবে। এরপর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ৪ থেকে ৭টির মধ্যে একটি শর্ট লিস্ট বা তালিকা তৈরি করবে। আরএফপি (রিকুয়েস্ট ফর প্রপোজাল) করার পর, চুক্তিবদ্ধ হতে প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একটি মৌখিক নেগোসিয়েশন বা সমঝোতা চুক্তি করার পর বিষয়টি জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগে ফাইল পাঠানো হবে। এসব কাজ সম্পন্ন করতে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি আসার পর ২০২৭ সালের শুরুতেই চুক্তিবদ্ধ হওয়া কনসালটেন্সি ফার্ম বা প্রতিষ্ঠান মেমিস সফটওয়্যার তৈরির কাজ শুরু করবে। চুক্তির দিন থেকে তিন মাসের মধ্যে অর্থ্যাৎ মার্চ মাসের মধ্যে ইএফটি ও শিক্ষকদের অনলাইনে বদলির মডিউলটি তৈরি করবে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানটি। 

জানা যায়, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি), এমপিও কারেকশন, বিল সাবমিশন, বিবিধ ও এপিআই, ইমপ্লিমেন্টেশন, বদলি মডিউল প্রকল্পের চুক্তি সম্পাদনের ৩ মাসের মধ্যে চালু হবে। চুক্তি সম্পাদনের ৬ মাসের মধ্যে মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (মেমিস) ১৮টি সফটওয়্যার স্বয়ংসম্পূর্ণরুপে চালু হবে। এ ছাড়াও প্রজেক্টের মেয়াদ ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার পর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নিজস্ব আইটি সেলের মাধ্যমে কার্যক্রমগুলো পরিচালিত হবে। 

সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার। কর্মরত এসব শিক্ষকদের অনেকের এমপিওতে ঝামেলা রয়েছে। অনেক শিক্ষকের জাল সনদের বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও বর্তমানে যাদের নামের বানানে ভুল রয়েছে, তাদের আবেদন গ্রহণ চলমান রয়েছে এবং সংশোধন প্রক্রিয়া কার্যক্রম চলছে। কারণ একটি জাতীয় পরিচয় পত্রে (এনআইডি) মাধ্যমে একজন শিক্ষক বা কর্মচারী বেতন-ভাতা পাবেন। তাই তাদের নামের বানানের সংশোধনসহ নানা কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ফিরোজ আল মাহমুদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষকদের ম্যানুয়ালি বদলির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে ইএফটির বিষয়টি আমি জানি, তবে আপনি আমার ঘনিষ্ঠ না হওয়ায় আপনাকে বলতে পারছি না ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলুন।’

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (উপসচিব) মো. আবুল কালাম তালুকদার (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন শাখা) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, মেমিস সফটওয়্যারের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কনসালটেন্সি ফার্মের সঙ্গে চুক্তির দিন থেকে ৩ মাসের মধ্যে ইএফটি ও শিক্ষক বদলির মডিউলটি চালু হবে। আশা করছি ইএফটি কার্যক্রম আগামী বছরের এপ্রিল মাস থেকে চালু হতে পারে।’