মাদ্রাসার ভেতরে ‘ছাত্রী’র সঙ্গে অন্তরঙ্গ হওয়ার চেষ্টা শিক্ষকের, ভিডিও ভাইরাল
নেত্রকোণা শহরের এন আকন্দ কামিল মাদ্রাসার ভেতরে এক শিক্ষকের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ হওয়ার চেষ্টার মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। গত আগস্টের সিসিটিভি ভিডিও আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শহরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার তৈরি হয়।
গত ৮ বছর ধরে অভিযুক্ত মো. এহসানুল হক ওই মাদ্রাসার অনার্স শাখার নন-এমপিও প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে এবং তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।
অপরদিকে ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় সম্পর্কে এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ধারণা, ওই ছাত্রী অনার্স বা মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থী হতে পারে। মানসম্মানের ভয়ে ওই ছাত্রী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
জানা যায়, গত আগস্ট মাসে মাদ্রাসার সকল শিক্ষকদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সভা চলছিল। ওই সময় সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটরে কয়েকজন শিক্ষক দেখতে পান, একটি কক্ষে এক শিক্ষক এবং এক বোরকা পরিহিত নারী অবস্থান করছেন। দৃশ্যটি সন্দেহজনক মনে হলে তারা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
পরবর্তীতে কয়েকজন শিক্ষক অভিযুক্ত এহসানুল হককে ডেকে ওই ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে তিনি সিসিটিভি ক্যামেরার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ফুটেজের প্রমাণ সামনে আসায় একপর্যায়ে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে নেন এবং সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চান।
মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি করা হবে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন বলেন, ২৬ অগাস্ট বিষয়টি জানার পর তিনি সিসিটিভির ভিডিও দেখেন এবং সত্যতা পান। তারপর মাদ্রাসার অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাধারণ শিক্ষা শাখার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, প্রভাষক এহসানুল হকের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। তার কাছ থেকে পদত্যাগপত্র নিয়ে মাদ্রাসা থেকে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে।