অনুদানভুক্তির তালিকা থেকে বাদ ৪৭১ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক, নেপথ্যে তিন কারণ
অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করেছে মাদ্রসা শিক্ষা অধিদপ্তর; যেখান থেকে বাদ পড়েছেন ৪৭১ জন শিক্ষক। বাদ পড়া এসব শিক্ষকদের বিষয়ে জানতে ডেকেছে সরকারের এই সংস্থাটি।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ৪ হাজার ৭১১ জন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের অনুদান দেওয়া হয়। তালিকায় থাকা বেশ কয়েকজন শিক্ষকের বিষয়ে সন্দেহ হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের। পরে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অধিদপ্তর একটি তদন্ত করে এবং গত ১৬ সেপ্টেম্বর একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকায় ৪ হাজার ২৪০ জনের শিক্ষকের নাম প্রকাশ করা হয়।
ফলে ৪৭১ জন শিক্ষককে তিন ক্যাটাগরিতে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানায় অধিদপ্তর। যদিও বাদ পড়া শিক্ষকদের বিভাগভিত্তিক নির্ধারিত তারিখে ডাকা হচ্ছে।
প্রকাশিত তালিকা থেকে বাদ পড়ার তিন কারণ হলো— কিছু প্রতিষ্ঠান পূর্বে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা হিসেবে পরিচালিত হলেও সম্প্রতি তা দাখিল স্তরে উন্নীত হয়েছে। ফলে দাখিল স্তর চালু হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। দ্বিতীয়ত, শূন্য অনুদানভুক্ত তালিকায় যেসব শিক্ষকদের নাম ছিল ছিল তাদের নাম বাদ পড়েছে। এ ছাড়াও ২০২৩/২৪ সালে স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক যে তালিকা করা হয়েছিল, সেসব তালিকায় ভুল থাকায় অনেক শিক্ষকের নাম বাদ পড়েছে।
অধিদপ্তর সূত্র জানায়, তালিকা থেকে যেসব শিক্ষকের নাম বাদ পড়েছে, তারা তাদের মতামত জানাতে নির্ধারিত আসতে পারবেন। মতামত গ্রহণের পর ফের তালিকা সংশোধন হবে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘প্রকাশিত খসড়া তালিকা নিয়ে যাচাই-বাছাই চলছে, শিক্ষকদের ডাকা হয়েছে। আমরা তাদের মতামত নিচ্ছি। পরে আলোচনা করে তালিকা সংশোধন করা হবে।’
জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ফিরোজ আল মাহমুদ স্বাক্ষরিত নোটিশে বিভিন্ন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষকদের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে অনুদানভুক্ত শিক্ষকদের একটি খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত তালিকা নিয়ে শিক্ষকদের কোনো আপত্তি, মতামত বা উপযুক্ত দাপ্তরিক প্রমাণক থাকলে নির্ধারিত সময়ে তা দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।