ইবতেদায়ী শিক্ষকদের গ্রেড সংশোধনী বিষয় নিয়ে যা বলছে মন্ত্রণালয়-অধিদপ্তর
ইবতেদায়ী শিক্ষকদের গ্রেড উন্নয়নে তিন পদের (ইবতেদায়ি শিক্ষক, মৌলভী ও ক্বারী) একটিতে ভুল থাকায় আবেদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রায় ১৬ হাজার মাদ্রাসা শিক্ষক। শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানে নীতিমালাটি সংশোধন করে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর একটি চিঠি পাঠায় অধিদপ্তর।
তবে অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর পাঁচ মাস পার হলেও ইবতেদায়ির তিন পদের গ্রেড সংশোধনীর বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় ক্ষোপ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।
জানা গেছে, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ প্রকাশ করে সরকার। ইবতেদায়ী শিক্ষকদের গ্রেড উন্নয়নে তিন পদের (ইবতেদায়ি শিক্ষক, মৌলভী ও ক্বারী) একটিতে ভুল থাকায় মেমিস সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেননি শিক্ষকরা। পরে সংশোধনের বিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, শিক্ষকদের গ্রেড সংশোধনীর বিষয়টি কাজ চলমান রয়েছে।
পাশাপাশি গ্রেড সংশোধন করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগে একটি চিঠি পাঠানো হয়। তবে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ অর্থ বিভাগে একটি চিঠি পাঠালেও ফাইলটি ফেরত আসে। এরপর থেকেই ফাইলটি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পরে রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রেহানা ইয়াসমিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ফাইলটি মন্ত্রণালয়ে ৫ মাস ধরে আটকে থাকার বিষয়টি আমি জানি না। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আগামী রবিবার জানাতে পারব।’
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ইবতেদায়ী মাদ্রাসার তিন পদের গ্রেড সংশোধনীর বিষয়ে সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে ভালো বলতে পারবে।’
সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ প্রকাশ করে সরকার। নীতিমালা অনুযায়ী ইবতেদায়ি শিক্ষক পদে—কাঙিক্ষত যোগ্যতা সাপেক্ষে ১৩তম গ্রেড প্রাপ্ত হবেন (সরকার স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়/বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে ফাযিল/সমমান ডিগ্রি; পূর্বের নিয়োগকৃতরা কাঙিক্ষত যোগ্যতা)।
তথ্যমতে, ইবতেদায়ি মৌলভী পদে—বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড অথবা কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে ফাজিল ডিগ্রি; দাখিল ও আলিমসহ কোনা স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে আরবি বিষয়সমূহে (আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল ফিকহ অ্যান্ড ইসলামিক স্ট্যাডিজ, আরবি, আরবি ভাষা ও সাহিত্য, ইসলামিক স্টাডিজসহ অন্যান্য) স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি আছে; তারা ১৩তম গ্রেডে আবেদন করতে পারবেন। তবে পূর্বের নিয়োগকৃতরা কাঙিক্ষত যোগ্যতা অর্জন সাপেক্ষে ১৩ গ্রেড প্রাপ্ত হবেন।
ইবতেদায়ী ক্বারী পদে—রেজিষ্ট্রেশনকৃত নুরানী/দরসে, কিরাআহ/হাফিজে; কুরআন/দাখিল মুজাব্বিদ/ আলিম মুজাব্বিদ-মাহিরসহ ফাযিল ডিগ্রি আছে তারা ১৩তম গ্রেডে আবেদন করতে পারবেন। তবে পূর্বের নিয়োগকৃতরা কাঙ্খিত যোগ্যতা অর্জন সাপেক্ষে ১৩ গ্রেড প্রাপ্ত হবেন।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ৪০ (৩), ৪১ (২) ও ৪২ (২) অনুযায়ী যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সংযুক্ত ইবতেদায়ি শিক্ষক/মৌলভী/ ক্বারী পদে গ্রেড-১৩ প্রাপ্তির জন্য মাদ্রাসার শিক্ষকরা আবেদন করে গ্রেড বাড়াতে পারবেন বলে বলা হয়।
এদিকে দেশে এমপিওভুক্ত আলিয়া মাদ্রাসা প্রায় ৮ হাজার ২২৯টি। ইবতেদায়ির ৩টি পদে উচ্চতর গ্রেডে আবেদনের ক্ষেত্রে কাঙ্খিত যোগ্যতা রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষকের। ১৪তম (১৬ থেকে ৩০ বছর ধরে চাকরি করা শিক্ষক) গ্রেড থেকে ১৩তম গ্রেডে আবেদন করতে পারলেও ১৫তম গ্রেড (১০ থেকে ১৬ বছর ধরে চাকরি করা শিক্ষক) ও (০ থেকে ৯ বছর ধরে চাকরি করছেন) ১৬তম গ্রেড থেকে ১৩তম গ্রেডে আবেদন করতে পারছেন না তারা। প্রাপ্তিতা থাকা স্বত্বেও আবেদন নিচ্ছে না মেমিস সফটওয়্যার।