মাদ্রাসা শিক্ষক বদলি: সহকারী অধ্যাপক পদ নিয়ে বিপাকে শিক্ষকরা
বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সফটওয়্যারে সহকারী অধ্যাপক পদ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। সফটওয়্যারে শুধু প্রভাষক পদ থাকায় আবেদন নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। সেক্ষেত্রে সহকারী অধ্যাপকরা প্রভাষক পদ নির্বাচন করেই আবেদন করতে পারবেন।এতে তাদের পদমর্যাদা বা বেতন-ভাতায় কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
বিশ্বনবী (স.) ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, নারায়ণগঞ্জের শিক্ষক মাকসুরাতুম মাখপিয়া ১৯ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। তিনি আরবি বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক। ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে গত ছয় বছর ধরে ঢাকায় বসবাস করছেন। ফলে প্রতিদিন ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জে গিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাকে।
বদলির সুযোগ আসায় ঢাকায় কাছাকাছি কোনো মাদ্রাসায় বদলি হতে চাচ্ছেন তিনি। কিন্তু অনলাইনে আবেদন করতে গিয়ে সহকারী অধ্যাপক পদটি খুঁজে পাননি। সফটওয়্যারে শুধু প্রভাষক পদ দেখাচ্ছে।
মাকসুরাতুম মাখপিয়া দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সহকারী অধ্যাপক পদে আবেদন করতে চাই। কিন্তু সেই পদ খুঁজে পাইনি। শুধু প্রভাষকের পদ রয়েছে। এখন কী করবো? যদি প্রভাষক পদেই আবেদন করি, তাহলে আমার বেতন কোনটা দেওয়া হবে?’
নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে ৩১ বছর ধরে চাকরি করছেন আরেক সহকারী অধ্যাপক। দীর্ঘ চাকরিজীবনের পর এবার বদলির সুযোগ পেয়ে বাড়ির কাছাকাছি একই স্তরের একটি প্রতিষ্ঠানও পছন্দ করেছেন তিনি। কিন্তু অনলাইন সফটওয়্যারে কাঙ্ক্ষিত সহকারী অধ্যাপক পদ খুঁজে পাচ্ছেন না। সমাধান জানতে না পেয়েও অনলাইনে প্রভাষক পদে আবেদন করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ অনলাইনে প্রভাষক পদেই আবেদন করলাম। যদি সহকারী পদে বদলি না হতে পারি, তাহলে প্রয়োজনে প্রভাষক পদে হলেও বদলি দেওয়া হোক। বদলি হওয়া খুবই প্রয়োজন। এত বছর বাড়ি থেকে এত দূরে গিয়ে কষ্ট করলাম। এখন বদলির যেহেতু সুযোগ তৈরি হলো, তাই আর কষ্ট করতে চাই না।’
জানা গেছে, বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সাধারণত প্রভাষক পদে অন্তত আট বছরের সন্তোষজনক চাকরির অভিজ্ঞতা এবং জ্যেষ্ঠতা বিবেচনা করা হয়। মোট প্রভাষক পদের ৫০ শতাংশ শিক্ষককে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বিধান রয়েছে। সহকারী অধ্যাপক পদটি ষষ্ঠ গ্রেডভুক্ত।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসায় সহকারী অধ্যাপক পদটি মূলত পদোন্নতিপদ হওয়ায় শিক্ষকদের মূল নিয়োগ হয় প্রভাষক হিসেবে। তাই সহকারী অধ্যাপক পদ সফটওয়্যারে না থাকলেও প্রভাষক পদে আবেদন করলে কোনো সমস্যা হবে না। তবে গুগল ডকসে বদলি সংক্রান্ত তথ্য পূরণের সময় সহকারী অধ্যাপকদের বিষয় হিসেবে আরবি নির্বাচন বা উল্লেখ করতে হবে।
অধিদপ্তর সূত্র আরও জানায়, সফটওয়্যারে সহকারী অধ্যাপক পদ না থাকলেও পদটির মূল নিয়োগ কাঠামো বিবেচনায় প্রভাষক পদে আবেদন করলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের পদমর্যাদা বা বেতন-ভাতায় কোনো পরিবর্তন হবে না। নিয়োগের তথ্য ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতেই বদলির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
আরও পড়ুন: মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলিতে যত আবেদন পড়ল
এদিকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (মাদ্রাসা) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির জন্য প্রায় ৪২ হাজার শূন্য পদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সফটওয়্যার ভিত্তিক বদলি কার্যক্রম চালু না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (মাদ্রাসা) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা ২০২৬’-এর বিধি ৩.১৯ অনুযায়ী জনস্বার্থে বদলির লক্ষ্যে শূন্য পদের বিপরীতে ম্যানুয়াল (হার্ডকপি) আবেদনও গ্রহণ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত শূন্য পদের তালিকা থেকে পছন্দের মাদ্রাসা নির্বাচন করতে হবে। এরপর নির্ধারিত ছক অনুযায়ী নিজের ও স্পাউসের জাতীয় পরিচয়পত্র, আবেদনকারীর বর্তমান পদের প্রথম ও সর্বশেষ এমপিও কপি, বর্তমান কর্মস্থলে যোগদানপত্র এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্পাউসের কর্মস্থলের প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করে মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করতে হবে।
আবেদনে শিক্ষকের নাম ও ইনডেক্স নম্বর, স্থায়ী ঠিকানা, বিষয় ও পদের নাম এবং যোগদানের তারিখ, বর্তমান কর্মস্থলের জেলা-উপজেলা, মাদ্রাসার নাম ও এমপিও নম্বর, পছন্দের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা, স্পাউসের কর্মস্থল, বর্তমান কর্মস্থল থেকে স্থায়ী ঠিকানার দূরত্বসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।