২২ জুন ২০২৬, ২০:৩২

এনসিটিবির ৫ হাজার পাঠ্যবই বিক্রির চেষ্টা, মাদ্রাসা সুপার শোকজ

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের লোগো-পাঠ্যবই  © টিডিসি ফটো

বিনামূল্যে বিতরণের জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রায় ৫ হাজার পাঠ্যবই বিক্রির চেষ্টায় একটি মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. ওমর ফারুককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। ঘটনাটি ভোলার চরফ্যাশনের একটি দাখিল মাদ্রাসার।

আজ সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চরফ্যাশন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল খায়ের। নোটিশে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চর শশীভূষণ হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে শনিবার (২০ জুন) সকাল ৭টার দিকে বিপুল পরিমাণ সরকারি পাঠ্যবই সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে বইগুলো আটকে দেন। এ সময় মাদ্রাসার সুপার ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য সরকারের বরাদ্দ দেওয়া এসব বই গোপনে বিক্রির উদ্দেশ্যে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। পরে তারা বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘একটি শ্রেণিকক্ষ খালি করার প্রয়োজন হওয়ায় বইগুলো অন্যত্র সরানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এগুলো চলতি শিক্ষাবর্ষের বই নয়। স্থানীয়রা ভুল বুঝে আপত্তি জানালে আমি সেখান থেকে চলে আসি।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মাদ্রাসা সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তার জবাব পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’