অচল ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট: অন্ধকারে শিক্ষার্থী ও মাদ্রাসা প্রশাসন
বেশ কিছুদিন ধরে প্রবেশ করা যাচ্ছে না ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে। এই অকার্যকারিতার ফলে অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় অনলাইন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরাও। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংশোধনের আবেদন ফরম ডাউনলোড করতে পারছেন না, আবার অনেকে সনদপত্র সংগ্রহের জন্য অনলাইনে আবেদন করতেও ব্যর্থ হচ্ছেন। ফলে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি, চাকরির আবেদন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে শিক্ষার্থীরা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, অনলাইনে ফলাফলের কপি ডাউনলোড করতে না পারায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং চাকরির আবেদন প্রক্রিয়ায় সময়মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে পারছেন না তারা। এতে অনেকেই উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।
অন্যদিকে অধিভুক্ত মাদ্রাসাগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বিভিন্ন আবেদনপত্র, ফরম ও নির্দেশনা ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মতে, একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন সেবানির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট দীর্ঘ সময় অকার্যকর থাকা শিক্ষা ব্যবস্থাপনার জন্য উদ্বেগজনক।
এদিকে আগামীকাল (১৭ জুন) হিজরি নববর্ষ উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ এবং ওয়েবসাইট অকার্যকর থাকায় একই দিনে যশোর জেলায় ‘মাদ্রাসায় উচ্চ শিক্ষার সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আয়োজিত সেমিনারে দেশের অধিকাংশ মাদ্রাসা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আয়োজন সম্পর্কে অবগত হতে পারেনি।
সংশ্লিষ্টরা দ্রুত আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট সচল করে সার্ভারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প সেবা ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও মাদ্রাসাগুলোর দুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (অ্যাকাডেমিক) ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাদের কাছে অভিযোগ আসছিল, অনেকে সাইটে ঢুকতে পারছেন না। ধারণা করছি সাইটে কোনো সাইবার অ্যাটাক হয়েছে। তবে বিষয়টি আমরা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে সাইট পুরোপুরি কলাপস করেনি। তাই অনেকে কাজ করতে পারছে, আবার অনেকে পারছে না। সাইটটি বিডিরেন থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কাজ চলমান রয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই সাইটের সমস্যার সমাধান হবে। দু-একদিন সময় লাগতে পারে। এই সপ্তাহের মধ্যেই সচল করার চেষ্টা করছি আমরা।
সাইট বন্ধ থাকায় যারা বিভিন্ন কাজ সময়মতো করতে পারেনি, তাদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত? জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন সমস্যায় কেউ পড়লে এর জন্য তারা দায়ী না। আমরা অবশ্যই তাদের বিষয়টি বিবেচনা করব। প্রয়োজনে সময় বাড়ানো হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের লোকবল কম থাকায় সমস্যা শনাক্ত করতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে আমরা বিকল্প হিসেবে আরেকটি সাইট করার চিন্তাও করছি। যেহেতু বাজেটের বিষয় আছে, তাই একটু সময় লাগবে।