১৫ জুন ২০২৬, ১৮:৫০

বেতন পাননি ১ লাখ ৯১ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী, কবে পাবে—কেউ জানে না

বাংলাদেশ সরকার লোগো   © টিডিসি সম্পাদিত

মে মাসের বেতন পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন দেশের এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসার প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী। সংশ্লিষ্ট কোডে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় বেতন ছাড় হচ্ছে না। তারা কবে পাবেন তা কেউই বলতে পারছে না। 

সূত্র জানায়, প্রতি অর্থবছরে মূল বাজেটের পর বছরের মাঝখানে একটি সম্পূরক বাজেট হয়ে থাকে। কিন্তু চলতি বছরের সম্পূরক বাজেটে চাহিদার তুলনায় অর্ধেক টাকা ঘাটতি থাকায় এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের বেতন হয়নি।

কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের বাজেট শাখা থেকে অর্থমন্ত্রণালয়ে একটি ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ করছেন বলে জানায় মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র। 

জানা গেছে, শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতিমাসের বেতনের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর আর্থিক চাহিদা চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের বাজেট শাখায় চাহিদাপত্র দিয়ে থাকে। পরে মন্ত্রীর অনুমোদনের পরে অর্থমন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠি পাওয়ার পর মাদ্রাসা অধিদপ্তর অর্থ ছাড়ের নোটিশ দিয়ে থাকে। কিন্তু চলতি মাসের ৯ জুন শিক্ষক-কর্মচারীদের কোডে টাকা না থাকায় বেতন দেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। এতে চলতি মাসের বেতন দেওয়া নিয়ে একটি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে বেতন কবে হবে কেউ জানেন না বলে জানায়।

এদিকে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা। তারা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে বলেন, ‘দেশের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন পেলেও আমরা পায়নি। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর থেকেও আমাদেরকে সঠিক কোনো তথ্য দিচ্ছে না। বেতন না পেয়ে পরিবার নিয়ে আমাদের কষ্ট হচ্ছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের বেতনের বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে, তবে কবে পাবেন বলে জানাতে পারেননি তিনি। 

এ বিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ও  যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা যেন বেতন পেতে পারেন, সে বিষয়ে কাজ করছি।’

দেশে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ৮ হাজার ২২৯টি। এর মধ্যে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের মাদ্রাসা যথাক্রমে ৫ হাজার ৭৬৭, ১ হাজার ২৮৫টি ও ফাজিল ৯৯৩টি ও ১৮৪টি। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।