ইফএফটিতে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন জটিলতা, নেপথ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ সফটওয়্যার
রিপন সরকার। আইসিটি বিষয়ে পড়ান নোয়াখালী জেলার এমপিওভুক্ত একটি আলিয়া মাদ্রাসায়। বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ ও কারিগরির শিক্ষক-কর্মচারীরা ইএফটির মাধ্যমে নিজ একাউন্টে বেতন-ভাতা পেলেও তার বেতন তুলতে অপেক্ষা করতে হয় নানা আমলাতান্ত্রিক কাগুজে স্বাক্ষরের ওপর। তার মতো এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বেতন-ভাতা পেতে পোহাতে হচ্ছে নানা ভোগান্তি। দ্রুত সময়েই শিক্ষকদের ইএফটিতে যুক্ত করার কথা মন্ত্রণালয় বললেও রয়েছে নানা জটিলতা। শিক্ষকদের দাবি, অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় বারবার আশ্বাস দিলেও নিচ্ছে না কোনো কার্যকর পদক্ষেপ।।
জানা গেছে, বেসরকারি এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সহজে পেতে ইএফটি পদ্ধতি চালু করে মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা। আর জুলাই থেকে এ সুবিধার আওতায় এসেছে কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোও। তবে শুধু ব্যতিক্রম দেশের প্রায় ৯ হাজার মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
এদিকে মাদ্রাসার শিক্ষকদের ইএফটিতে (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) যুক্ত করতে শিক্ষকদের কাছ থেকে এখনো কোনো তথ্য চাওয়া হয়নি বলে জানান শিক্ষকরা। তারা একাধিকবার মাদ্রাসা অধিদপ্তরে যোগাযোগ করলেও কোনো সাড়া মিলছে না বলে অভিযোগ তাদের। ইএফটিতে যুক্ত করতে চলতি মাসের শুরুতে মন্ত্রণালয় বরাবর একটি আবেদনও করেন এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা।
গতানুগতিক পদ্ধতিতে বেতন-ভাতা পেতে মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এমপিও শিটে ম্যানেজিং কমিটি বা এডহক কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর নেওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অফিসে বেতন বিল জমা দিতে হয়। পাশাপাশি ব্যাংকে সভাপতির স্বাক্ষরসহ বেতন শিট জমা দিতে হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি এডহক বা ম্যানেজিং কমিটি না থাকে তবে ইউএনওর স্বাক্ষর নেওয়ার পর ব্যাংকে চেক জমা দিতে হয়। নানা দাপ্তরিক কাজ শেষে নিজ একাউন্টে বেতন জমা হতে হতে মাসের ১৫ তারিখও হয়ে যায়। আর বোনাস থাকলে তা জমা হতে আরও সময় লেগে যায়।
মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (মেমিস) সফটওয়্যারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে সফটওয়্যারের অনুমোদন ও প্রজেক্টের মেয়াদ বাড়াতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠানো হয়েছে। অনুমোদনের পর বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ইএফটিতে যুক্ত করার বিষয়ে কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সে হিসেবে প্রথমে শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য নেওয়া হবে এবং ইএফটিতে যুক্ত করার ধাপগুলো ধীরে ধীরে শেষ করার পর শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা নিজ নিজ একাউন্টে পাবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ইএফটির মাধ্যমে দিতে মেমিস সফটওয়্যারের যে কাজগুলো চলমান হওয়ার কথা ছিল; তার মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। সম্প্রতি এ ব্যাপারে একটি সভাও হয়েছে। স্কুল-কলেজ ও কারিগরি শিক্ষকরা ইএফটির আওতায় চলে আসলেও মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেলায় দেরি হয়ে গেছে। মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা যেন দ্রুত সময়ের ভেতরে ইএফটির আওতায় আসতে পারে সে ব্যাপারে কাজ চলমান রয়েছে।’
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. উবায়দুল হক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘কারিগরির শিক্ষক-কর্মচারীরা ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, তাই একই বিভাগ থেকে যেহেতু তাদের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে; তাহলে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদেরও বেতন-ভাতা পেতে কোনো অসুবিধা তো দেখছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষকদের ঈদুল ফিতরের ভাতা ম্যানুয়ালি হওয়ায় অনেক শিক্ষক ভাতা তুলতে পারেনি, আবার কেউ কেউ তুলেছেন। ভাতা ছাড়া ঈদ উদযাপন কষ্টের বিষয়। ইএফটি হয়ে গেলে এ সমস্যা কেটে যাবে।’