২১ মে ২০২৬, ১৭:২৬

বাংলা একাডেমির নজরুল পুরস্কার পাচ্ছেন ড. রশিদুন্ নবী

বাংলা একাডেমি ও অধ্যাপক ড. রশিদুন্ নবী  © সংগৃহীত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গানের চর্চা, প্রসার এবং তার জীবন ও সৃষ্টি নিয়ে গবেষণায় স্বীকৃতি হিসেবে বাংলা একাডেমির ‘নজরুল পুরস্কার’ পাচ্ছেন গবেষক ও অধ্যাপক ড. রশিদুন্ নবী। আগামী শনিবার (২৩ মে) বিকেল ৩টায় বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। 

বুধবার (২০ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলা একাডেমি এ তথ্য জানিয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সৃষ্টি নিয়ে গবেষণায় বিশিষ্ট নজরুল গবেষক অধ্যাপক রশিদুন্ নবীকে নজরুল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। পুরস্কারের অর্থমূল্য প্রতিটি ১ লাখ টাকা, সঙ্গে দেওয়া হবে সম্মাননা স্মারক ও উত্তরীয়।

বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের নজরুল সংগীতশিল্পী ও সংগীত পরিচালক রশিদুন্ নবী নজরুল সংগীতের অন্যতম বৃহৎ সংকলনগ্রন্থ ‘নজরুল-সংগীত সংগ্রহ’-এর সম্পাদক। এছাড়া নজরুল বিষয়ক গবেষণা, স্বরলিপি ও সম্পাদিত গ্রন্থ মিলিয়ে তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ২০টির বেশি। বিভিন্ন জার্নাল ও গবেষণাগ্রন্থে তার প্রায় অর্ধশত প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে দশম শ্রেণির ছাত্রাবস্থায় সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৮০ সাল থেকে নজরুল গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন ড. রশিদুন্ নবী। ১৯৮৯ সালে কবি নজরুল ইনস্টিটিউটে তার কর্মজীবনের সূচনা হয়। ২০০৭ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়র সংগীত বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি অধ্যাপক (গ্রেড-১) পদে উন্নীত হন এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অবসরে যান।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় তিনি সংগীত বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন বিভাগীয় প্রধান, দোলনচাঁপা হলের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রভোস্ট এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাশুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। 

নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে ড. রশীদুন্ নবী বলেন, ‘আমি প্রথমেই সকলের দোয়া চাই। যেকোনো পুরস্কার পাওয়া অবশ্যই আনন্দের। পুরস্কার পাওয়া কাজের স্বীকৃতি। এটা কাজের গতি বাড়ায়। সারাজীবন নজরুলকে নিয়েই চললো আমার। প্রায় ৪ যুগ ধরে আমি নজরুলকে নিয়ে গবেষণার কাজ করছি। সামনে আরও কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ। আর মান-সম্মান দেওয়ার মালিক তো উপরওয়ালা করুণাময়। আমি যেন এই সম্মান ধরে রাখতে পারি, সেই দোয়া চাই সকলের কাছে।’

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আশিক সরকার বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ও সংগীত বিভাগের প্রথম ব্যাচের ছাত্র, নবী স্যারের শিক্ষার্থী ছিলাম। তাঁকে পরবর্তীতে আমার সহকর্মী হিসেবেও পেয়েছি। তাঁর এই প্রাপ্তি আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত গর্বের। তিনি দেশী-বিদেশী অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি যেভাবে নজরুলচর্চাকে সমৃদ্ধ করেছেন, তা আমাদের প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে। তাঁর মতো একজন গুণী মানুষের সান্নিধ্যে থেকে আমরা শুধু সংগীত নয়, সততা, সাহস ও আদর্শের শিক্ষাও পেয়েছি।’

উল্লেখ্য, নজরুল গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অধ্যাপক ড. রশিদুন্ নবী এর আগে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট থেকে ‘নজরুল পুরস্কার-২০১৭’, বাংলাভিশন ফাউন্ডেশন থেকে ‘কবি নজরুল স্মৃতি পদক-২০১৭’, পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়াস্থ নজরুল একাডেমি থেকে ‘নজরুল পুরস্কার-২০১৮’ এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘নজরুল পদক-২০২৫’ অর্জন করেন।