২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৪৮

চুয়াডাঙ্গায় পৃথক মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন  © সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার আদালতে পৃথক দুটি মামলার রায়ে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আলমডাঙ্গার বহুল আলোচিত ঝন্টু হত্যা মামলায় দীর্ঘ ১৭ বছর পর দুই আসামিকে এবং অপর একটি মাদক মামলায় এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে সংশ্লিষ্ট আদালতগুলোর বিচারকরা পৃথকভাবে এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গায় ঝন্টু হত্যা মামলায় ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আলমডাঙ্গার গাংনী ইউনিয়নের শালিকা গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৬০) এবং একই গ্রামের মৃত আবু ছদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ (৬২)। রায়ে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, পান ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের বিরোধের জেরে ২০০৯ সালের ১৯ এপ্রিল রাতে মোবাইল ফোনে ডেকে নেওয়া হয় ঝন্টুকে। পরদিন গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা জাহা বক্স মণ্ডল আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আজ এ রায় ঘোষণা করেন। 

রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আ স ম আব্দুর রউফ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভুক্তভোগী পরিবারটি ন্যায়বিচার পেয়েছে।  রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট।

অন্যদিকে আলমডাঙ্গার কালিদাসপুর দক্ষিণপাড়ার মৃত জালাল উদ্দীনের ছেলে শফিউল্লাহকে (৬০) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক (জেলা জজ) শিমুল কুমার বিশ্বাস। একই সঙ্গে তাঁকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর শফিউল্লাহর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২২ অ্যাম্পুল (৪৪ মিলিলিটার) বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় মামলা দায়েরের পর চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন। 

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে এবং বিস্তার রোধে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।