সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলায় ঢাবি অধ্যাপক জামাল উদ্দিন নতুন করে গ্রেপ্তার
রাজধানীর পল্টন থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ডা. আ.ক.ম জামাল উদ্দিনকে (৫৬) গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত ১ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক মো. নুরুজ্জামান আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানি জন্য দিন রাখেন বুধবার।
এ সময় আসামি পক্ষের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার গ্রেপ্তারি দেখানোর বিরোধিতা করে জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এই মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
জামাল উদ্দীনের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার জানান, ঢাকার পল্টন মডেল থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের একটি মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান জামাল উদ্দীন। জামিননামা কারাগারে পাঠানোর পর ওই থানার আরেকটি সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন আসে। আজ তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হল।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৮ মে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সদস্য, অর্থদাতা, পরামর্শদাতা ও নির্দেশদাতারা ঢাকার গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম ও আশপাশের এলাকায় নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনার লক্ষ্যে সমবেত হন। ওই সময় পুলিশ সদস্যরা বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের বিপরীত পাশে হোটেল ইম্পেরিয়ালের সামনে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করেন। এ সময় অজ্ঞাতনামা প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০ জন বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ওইদিনই পল্টন মডেল থানা পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে।
পুলিশের দাবি, তদন্তে ডা. আ.ক.ম জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ, সংগঠনের আদর্শ ও কর্মকাণ্ড সমর্থন, অপরাধের ষড়যন্ত্র ও প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন সরকারবিরোধী মিছিল-মিটিংয়ে তার নেতৃত্ব দেওয়ার তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া গেছে বলে আটক আবেদনে বলা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১১ মার্চ রাজধানীর গুলিস্তান স্টেডিয়াম এলাকার সামনে ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি-২০২৬’ নামে এক পদযাত্রা কর্মসূচি থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে নিষিদ্ধ ঘোষিত কার্যক্রমের অভিযোগে পল্টন থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছে।