২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৪২

‘মবের শিকার’ প্রধান শিক্ষককে দায়িত্বে থাকার নির্দেশ হাই কোর্টের

‘মবের শিকার’ প্রধান শিক্ষককে দায়িত্বে থাকার নির্দেশ হাই কোর্টের  © টিডিসি ফটো

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার বেড়াকোলা আব্দুল মতিন খসরু গার্লস হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাছিনা ইসলামকে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাই কোর্ট। একই সঙ্গে বিদ্যালয়টির সাময়িক বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলামকে স্কুলের সীমানায় প্রবেশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এদিন আমিনুল ইসলামকে আদালতে তলব করা হলে তিনি হাই কোর্টের আদেশ ভঙ্গের বিষয়টি স্বীকার করে ক্ষমা চান। এর আগে আদালত তাকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার কথা বললেও পরে ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে আদালতের আদেশ মেনে চলা এবং স্কুলের আশপাশে না যাওয়ার অঙ্গীকার করায় তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে রেহাই দেওয়া হয়।

হাছিনা ইসলামের আইনজীবী খাজা তানভীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, হাই কোর্টের আদেশ থাকার পরও আমিনুল ইসলাম স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আবেদন করা হয়।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আমিনুল ইসলামের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার বরখাস্তের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে হাই কোর্ট রুল জারি করেন।

মামলার আইনজীবী তানভীর আহমেদ জানান, আমিনুল ইসলাম ওই রুলকে পুনর্বহালের আদেশ হিসেবে ব্যাখ্যা করে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেন এবং স্কুলে যাতায়াত শুরু করেন।

সে সময় হাছিনা ইসলাম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৪ সালের ২৯ মার্চ স্কুল খোলার পর আমিনুল ইসলাম ২০ থেকে ৩০ জন লোক নিয়ে স্কুলে গিয়ে হাছিনা ইসলামকে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার ছেড়ে দিতে বলেন।

হাছিনা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে দেওয়া চিঠির কথা জানিয়ে তিনি চেয়ার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তাকে চেয়ার থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং কয়েকজন তাকে লাথি মেরে চেয়ার থেকে ফেলে দেন। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

ওই ঘটনায় থানায় মামলা হলে আমিনুল ইসলাম গ্রেপ্তার হন। পরে ছয় দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে বের হন তিনি।

এরপর হাছিনা ইসলাম হাই কোর্টে আবেদন করেন। আইনজীবী তানভীর জানান, ওই আবেদনের পর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ আমিনুল ইসলামকে পুনর্বহাল না করার বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।

তিনি বলেন, ওই আদেশের পরও আমিনুল ইসলাম সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়।

আমিনুল ইসলামের বরখাস্তের বিষয়ে হাছিনা ইসলাম বলেন, তার নিয়োগ নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে একাধিক তদন্ত হয়েছে এবং তদন্তে তা প্রমাণিত হয়েছে। আমিনুল ইসলাম ২০১০ সালে স্কুলে যোগ দিলেও ২০০৪ সালের নিয়োগ দেখিয়েছিলেন। তার দাবি, ওই নিয়োগে আমিনুল ইসলাম ও কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল।

হাছিনা ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে তিন দফা তদন্ত হয়েছে এবং জেলা শিক্ষা বোর্ড ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের তদন্তেও নিয়োগসংক্রান্ত জালিয়াতি প্রমাণিত হয়েছে।’

পরে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতার ছেলেকে মারধরের একটি ঘটনায় আমিনুল ইসলাম সাময়িক বরখাস্ত হন। এরপর ২০২৪ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাছিনা ইসলাম।