১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৫৬

রাজধানীতে নববধূর আত্মহত্যা, রিমান্ড শেষে কারাগারে স্বামী

চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট  © সংগৃহীত

রাজধানীর শ্যামপুরে আফরা খান (১৬) নামে এক নববধূর মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার তার স্বামী মো. রাহাত হোসেনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছিদ্দিক আজাদের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আব্দুস ছবুর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আফরার মৃত্যুর ঘটনায় গত ২০ অগাস্ট শ্যামপুর থানায় রাহাতসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের মা লাকী আক্তার। অপর তিন আসামি হলেন-রাহাতের মা সোনিয়া আক্তার, বাবা লিটন ব্যাপারী এবং বড় ভাই সাইফ হোসেন।

মামলা দায়েরের পর ২১ অগাস্ট শ্যামপুরের ডিআইটি প্লটের নিজ বাসা থেকে রাহাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর রাহাতের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা কর্মকর্তা শ্যামপুর থানার এসআই ইমাম হোসেন।  গত ৮ সেপ্টেম্বর আসামির রাহাতের দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত।

রিমান্ড শেষে শুক্রবার রাহাতকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন এসআই ইমাম হোসেন।

ওই আবেদনে বলা হয়, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার কথা বললে তা দিতে অনীহা প্রকাশ করে। তার দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৮ মে পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন রাহাত ও আফরা। বিয়ের পর থেকেই আসামিরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতো। এর প্রতিবাদ করলে তারা তাকে মারধর করতো। আসামিরা তাকে ভয়ভীতি, হুমকি, মানসিক নির্যাতনসহ অপমান করে হয়রানী ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতো। 

গত ২০ অগাস্ট সোনিয়া আক্তার ভিকটিমের মাকে ফোন করে জানায়, আফনা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছে। তাকে সূত্রাপুর একটি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য লিটন ব্যাপারী ও সাইফ নিয়ে যায়। আফরার মা হাসপাতালে যান। সেখানে গিয়ে মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। সেখান থেকে আফরাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় ২০ অগাস্ট লাকী আক্তার মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনায় গত ২ সেপ্টেম্বর রাহাতের মা সোনিয়া আক্তার, বাবা লিটন ব্যাপারী এবং বড় ভাই সাইফ হোসেন আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।