০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:০৯

কক্সবাজারে সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি নষ্ট করে সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ হাইকোর্টের

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি নষ্ট করে সড়ক নির্মাণকাজ চলছে  © সংগৃহীত

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বালিয়াড়িতে সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে সাইমন ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজ ৮ সপ্তাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আইনজীবী জানান, আদালতের রায় অমান্য করে বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ করার কারণে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া সমুদ্রসৈকতের ৩০০ মিটার পর্যন্ত কোনো ধরনের নির্মাণকাজ আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ।

এর আগে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। পরিবেশ আইন ও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় এই সড়ক নির্মাণের কাজ কেন বন্ধ করা হবে না, জানতে চেয়ে আইনি নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। দুই সচিবসহ আট সরকারি কর্মকর্তাকে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

ইসিএ অধিভুক্ত সমুদ্রসৈকত এলাকায় বড় ধরনের সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়ন করার আগে পরিবেশ ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক। কিন্তু সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র কেউ নেয়নি।

এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরও প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় সড়ক নির্মাণের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে কৈফিয়ত তলব করেছে।

৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক উন্নয়ন ও শহর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কক্সবাজার পৌরসভা। অর্থায়ন করছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই)। 

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী দেশে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন ১৩টি এলাকার (ইসিএ) একটি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। ইসিএ আইনমতে, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে এমন যেকোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ, শিল্পকারখানা স্থাপন, মাটি, পানি ও বায়ুর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন বা নষ্ট করতে পারে, এমন সব কাজ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।