০৯ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৫১

গণ-অভ্যুত্থানের সময় জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করা ছিল অপরাধ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল  © সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের একটি অপরাধ ছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম।

তিনি উল্লেখ করেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ঢালাওভাবে গ্রেফতারের পর তাদের জামায়াত-শিবিরের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকার এই নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

রবিবার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে প্রসিকিউটর এই কথা বলেন। তিন সদস্যের এই ট্রাইব্যুনালের নেতৃত্বে রয়েছেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, এবং অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

যুক্তিতর্ক চলাকালে তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মধ্যে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাইয়ের একটি সংগৃহীত ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে পেশ করা হয়। উক্ত কথোপকথনে ওবায়দুল কাদের জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের ফাইলের অগ্রগতির বিষয়ে তাগিদ দেন এবং আসাদুজ্জামান খান জানান যে আইন মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর রাতের মধ্যেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে। প্রসিকিউটর তামীম এই ফোনালাপটিকে জামায়াত-শিবিরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ করার সরাসরি প্রমাণ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন।

উক্ত মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অন্য পলাতক আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ।