০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১০

প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে সংসদ সদস্যকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসাইন  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসাইনকে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে তাঁর বিরুদ্ধে করা ৩ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগের পক্ষে সাত দিনের মধ্যে প্রমাণ উপস্থাপন অথবা নিঃশর্তভাবে অভিযোগ প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে আসিফ মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেজে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই দিনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনির মাধ্যমে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশে বলা হয়, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী একজন পরিচিত জননেতা এবং সততা, নৈতিকতা ও জনসেবার জন্য পরিচিত।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি একটি প্রকাশ্য সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে বিথীকা বিনতে হোসাইন অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক হিসেবে তাঁর নিয়োগের বিষয়টি সহজ করতে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির কাছ থেকে আসিফ মাহমুদ ৩ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন।

নোটিশে বলা হয়, বিথীকা বিনতে হোসাইনের ওই বক্তব্য পরবর্তী সময়ে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ফলে অভিযোগটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত, পেশাগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।

নোটিশ অনুযায়ী, অভিযোগ প্রকাশের পর ৪ আগস্ট আসিফ মাহমুদ তাঁর প্রতিনিধিদের মাধ্যমে একাধিকবার বিথীকা বিনতে হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগের পক্ষে থাকা প্রমাণ, নথি, অডিও-ভিডিও বা অন্যান্য তথ্য উপস্থাপনের অনুরোধ জানান। তখন তিনি প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ দেননি।

নোটিশে দাবি করা হয়, প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়া থেকে প্রতীয়মান হয় যে অভিযোগটি ভিত্তিহীন, মনগড়া ও বিদ্বেষপ্রসূতভাবে করা হয়েছে। এতে আসিফ মাহমুদের সম্মান, মর্যাদা ও জনমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, এই ধরনের মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় ধরনের দায় সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রযোজ্য অন্যান্য আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

নোটিশে বিথীকা বিনতে হোসাইনকে সাত দিনের মধ্যে অভিযোগের পক্ষে সব ধরনের প্রমাণ উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় অভিযোগ নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে এবং একই মাধ্যমে সমান গুরুত্ব দিয়ে সেই ক্ষমা প্রার্থনা প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব দাবি পূরণ না হলে তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে উপযুক্ত দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিথীকা বিনতে হোসাইন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সাথে যুক্ত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৪ থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী এই সংসদ সদস্য।