২৮ জুলাই ২০২৬, ১৬:৪৯

মানিকগঞ্জে স্কুলছাত্র সোহান হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড

আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি  © টিডিসি

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে নবম শ্রেণির ছাত্র সোহান মিয়া হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মামলার অন্য একটি ধারায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণ দেওগাঁও এলাকার মো. আওয়াবিন মিয়া এবং বরিশাল জেলার বিমানবন্দর উপজেলার সারসী গ্রামের মো. সাগর মুন্সি। এর মধ্যে সাগর মুন্সি পলাতক।

মামলার বিবরণে জানা যায়, নিহত সোহান মিয়া সিংগাইর উপজেলার ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম ও লাইলী বেগম দম্পতির বড় ছেলে। সে ফোর্ডনগর বিআরটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

করোনা মহামারির সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যরা ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে তার জন্য একটি ব্যাটারিচালিত হ্যালোবাইক কিনে দেন। ওই হ্যালোবাইক চালিয়ে সোহান ধল্লা বাজার ঘাট থেকে খাসের চর পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করত। ২০২১ সালের ১৯ জুলাই সকাল ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো হ্যালোবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় সে। দুপুরে খাবারের সময় বাড়ি না ফেরায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে সে কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরবে বলে জানায়। এরপর আবার ফোন করা হলে সেটি আর রিসিভ করেনি।

পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে জানতে পারেন, খাসের চর বাজার থেকে ধল্লা বাজারগামী কাঁচা সড়কের পাশে সোহানের মরদেহ পড়ে রয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। এ সময় তার ব্যবহৃত হ্যালোবাইক ও মোবাইল ফোন পাওয়া যায়নি।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, হ্যালোবাইক ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সোহানকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার দিনই নিহতের মা লাইলী বেগম সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম ২০২১ সালের ৩০ জুলাই তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আ ফ ম নূরতাজ আলম বাহার।