২৭ জুলাই ২০২৬, ১৮:২০

সাবেক উপাচার্য কলিমউল্লাহর জামিননামা দাখিল, কারামুক্তিতে বাধ নেই

সাবেক উপাচার্য কলিমউল্লাহর জামিননামা দাখিল, কারামুক্তিতে বাধ নেই  © সংগৃহীত

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের অর্থ আত্মসাতের মামলায় এক লাখ টাকা মুচলেকায় পাসপোর্ট জমা দেওয়া সত্ত্বে প্রতিষ্ঠানের সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহের জামিননামা দাখিল করা হয়েছে।  

সোমবার (২৭ জুলাই) শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবিরের আদালত এই জামিননামা দাখিলের অনুমতি দেন। এক্ষেত্রে তার কারামুক্তিতে কোন বাধা রইল না বলে জানান তার আইনজীবীরা।

এ বিষয়ে কলিমউল্লাহর আইনজীবী মহসিন রেজা ও মহিমা বাঁধন জানান, গত ১৪ জুন তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন। এক লাখ টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমার শর্তে জামিননামা দাখিলের অনুমতি দেন আদালত। আমরা জামিননামা দাখিল করেছি। অন্য কোন মামলা না থাকায় তার কারামুক্তিতে আইনগত কোন বাঁধা নেই। 

এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ও আসামির হাজিরার জন্য ধার্য ছিল। এজন্য কারাগার থেকে আসামি কলিমউল্লাহকে আদালতে হাজির করা হয়। হাজিরা শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

২০২৫ সালের ৭ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ওইদিনই জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। 

গত বছরের ১৮ জুন ‎বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কলিমউল্লাহসহ ৫ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার অপর আসামিরা হলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম নূর-উন-নবী, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদার মো. আ. সালাম বাচ্চু এবং এম এম, হাবিবুর রহমান।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ, অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি উপেক্ষা করে নকশা পরিবর্তন করেন। তারা ৩০ কোটি টাকা মূল্যের বেশি চুক্তি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অনুমোদন ছাড়া করেন। ঠিকাদারের রানিং বিল থেকে কেটে নেওয়া নিরাপত্তা জামানতকে এফডিআর হিসেবে ব্যাংকে জমা রাখা এবং সেইউ এফডিআর ঠিকাদারকে লোন দেওয়ার জন্য নো অবজেকশন সার্টিফিকেট অনুমোদন তথা গ্যারান্টার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের চার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। 

আরও বলা হয়, ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিতে অগ্রিম অর্থ দেওয়ার কোনও আইন না থাকা সত্ত্বেও অগ্রিম বিল দেন এবং অগ্রিম দেওয়া বিল সমন্বয়ের আগেই বিলের বিপরীতে প্রদত্ত ব্যাংক গ্যারান্টিগুলো অবমুক্ত করা হয়। প্রথম পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ড্রইং বা ডিজাইন না মেনে সরকারি খাতে ক্রয় পদ্ধতির বিধি বহির্ভূতভাবে দ্বিতীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়। অস্বাভাবিক হারে মূল্য দাখিল বা ফ্রন্ট লোডিং থাকা সত্ত্বেও পিপিআর ২০০৮ এর বিধান অনুযায়ী দরপত্র মূল্যায়ন না করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।