২২ জুলাই ২০২৬, ১৬:৪৫

টেকনাফে আওয়ামী লীগ নেতা জাফর আহমদের ৭ বছরের কারাদণ্ড

জাফর আহমদ  © সংগৃহীত

দীর্ঘ সাত বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জাফর আহমদকে মোট সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৮ কোটি ৫৯ লাখ ৭৩ হাজার ৩৪৮ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রামের বিশেষ জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন।

আদালতের রায়ে বলা হয়, জাফর আহমদ সম্পদ বিবরণীতে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেন এবং বৈধ আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখেন। দুদকের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে জাফর আহমদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু হয়। পরে তাকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হলে তিনি বিবরণী জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে দুদক দেখতে পায়, তিনি ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ১০ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন এবং মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।

এ ছাড়া তদন্তে উঠে আসে, তিনি ৪ কোটি ৯০ লাখ ৬৯ হাজার ১২৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে নিজের দখলে রেখেছেন, যার কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি।

দুদকের তদন্ত অনুযায়ী, ২০০১-০২ করবর্ষ থেকে ২০১৭-১৮ করবর্ষ পর্যন্ত তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য মোট আয় ছিল ২ কোটি ৫০ লাখ ৬ হাজার ৮৯৫ টাকা। অথচ একই সময়ে তার সম্পদ অর্জন ও বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ কোটি ৪০ লাখ ৭৬ হাজার ১৯ টাকা। ফলে বৈধ আয়ের তুলনায় ৪ কোটি ৯০ লাখ ৬৯ হাজার ১২৪ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস তিনি দেখাতে ব্যর্থ হন।

এ ঘটনায় দুদকের অনুমোদনের পর ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত তাকে মোট সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৮ কোটি ৫৯ লাখ ৭৩ হাজার ৩৪৮ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

রায়ের বিষয়ে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন বলেন, আদালত দুদকের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে সন্তুষ্ট হয়ে অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ দণ্ডাদেশ দিয়েছেন।