০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৫০

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত  © সংগৃহীত

ঢাকার কেরানীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী মোছা. শাহানুর আক্তারকে গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামী মো. জাহাঙ্গীর আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার ৪ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন।

রায় ঘোষণার সময় কারাগারে থাকা জাহাঙ্গীর আলমকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ)।

মামলার নথি অনুযায়ী, প্রায় ১১ থেকে ১২ বছর আগে প্রথম স্বামী মো. হারুনের মৃত্যুর পর শাহানুর আক্তার জাহাঙ্গীর আলমকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তাঁরা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার খালপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। দিনমজুরির পাশাপাশি অন্যের বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহের কাজ করতেন। জাহাঙ্গীর মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রায়ই স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি করতেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে নিয়মিত ঝগড়া-বিবাদ হতো।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর সকালে শাহানুরের মেয়ে মাকে ডাকতে গিয়ে দেখেন, ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। পরে ভাই মো. হৃদয়কে নিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে খাটের ওপর কাঁথা দিয়ে ঢাকা গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। সে সময় জাহাঙ্গীর আলম বাসায় ছিলেন না। এ ঘটনায় নিহতের ভাই জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৪ জুন কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, যৌতুকের টাকা না পেয়ে ২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর রাত ১০টা থেকে পরদিন ২০ নভেম্বর সকাল ৮টা ১০ মিনিটের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহানুরের গলা কেটে হত্যা করেন। পরে মরদেহ কাঁথা দিয়ে ঢেকে রেখে পালিয়ে যান।

অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর পর মামলায় ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন।