০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৪

শপথ নিতে পারবেন বিএনপির নির্বাচিত এমপি সারোয়ার: হাইকোর্ট

বিএনপির এমপি সারোয়ার আলমগীর  © সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করেছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ২ জুলাই রুলের ওপর শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করেছিলেন।

আদালতে সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মো. নুরুল আমিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

মামলার নথি অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তা সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করার পর ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী মো. নুরুল আমিন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ৪৬ হাজার পরীক্ষার্থীর ফল পুনঃপ্রকাশের নির্দেশ

পরে ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর। গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়ে রুল জারি করেন।

এরপর হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন নুরুল আমিন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনের ফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সারোয়ার আলমগীর বিজয়ী হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে তার ফল প্রকাশ করা হয়নি।

সবশেষে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিনের করা আপিলের শুনানি শেষে গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এর ফলে সংসদ সদস্য হিসেবে তার শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না।