০৮ জুলাই ২০২৬, ১৮:২৬

উগ্রবাদী সন্দেহে গ্রেপ্তার দুই সদস্য ফের তিন দিনের রিমান্ডে, চারজন কারাগারে 

রিমান্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ  © সংগৃহীত

উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রমের সাথে জড়িত সন্দেহে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার দুই সদস্যকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে গ্রেপ্তার হওয়া আরও চারজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার সাত দিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। পাশাপাশি আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এসময় ছয় আসামিকে আদালতে হাজির ছিল। গত রবিবার থেকে এ ছয় আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। আজ তিন দিনের রিমান্ড শেষে পুনরায় এ দুই আসামির সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার ইন্সপেক্টর এ বি সিদ্দিক। এর আগে গত রবিবার ৫ জুলাই এ তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

আজকের রিমান্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন- শাহ আমানত সাবির ও হোসাইন তানিম। অপরদিকে কারাগারে যাওয়ারা হলেন -জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, আবিদুর রহমান এবং বায়োজিত।

আদালতে আসামি শাহ আমানত সাবির ও হোসাইন তানিমের আইনজীবী মো. সাদ্দাম হোসেন রিমান্ড নামঞ্জুর চেয়ে জামিন আবেদন করেন। অপর আসামিদের পক্ষের পৃথক আইনজীবীরাও জামিন আবেদন করেন। 

আইনজীবী মো. সাদ্দাম হোসেন আদালতকে বলেন, এ আসামিরা শিক্ষার্থী। তাদের বয়স কম। ইতোমধ্যে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা কিছু পাননি। জবাবে আদালত বলেন, এ মামলায় পুলিশের অ্যাপ্রোচ ভালো। তাদেরকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। শুধুমাত্র সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে যদি কিছু না পাওয়া যায় তাহলে এমনিতেই খালাস পেয়ে যাবে।

এরপর উপস্থিত আসামিদের উদ্দেশ্য করে বিচারক জিজ্ঞেস করেন, আপনাদের কি রিমান্ডে কোনো মারধর করা হয়েছে? তখন আসামি শাহ আমানত সাবির মাথা। নেড়ে না বলেন পরে বিচারক দুই আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া ও অপর চারজনকে তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

রিমান্ড আবেদনে অনুযায়ী, যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় অভিযান তদারকি ডিউটি করা কালে ভোর ৬টার দিকে গোপন সংবাদ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, যাত্রাবাড়ী থানাধীন মিনি কক্সবাজার আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের পাশে বালুর মাঠে উগ্রবাদী সংগঠনের কতিপয় ব্যক্তি তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ট্রেনিং করার জন্য সমবেত হয়েছে। এ সংবাদ পেয়ে পুলিশ গত রবিবার সাড়ে ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে যায়। তাকে দেখে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করে।

পরে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ওই স্থানে কি কারণে সমবেত হয়েছিল তার কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তারা উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকতে পারে। এরপরে আদালতে নিয়ে এসে রিমান্ড আবেদন করা হলে ছয় আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ফের ছয় আসামির মধ্যে দুইজনকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানো প্রয়োজন।