বার কাউন্সিল পরীক্ষায় নিশ্চিত পাসের প্রলোভন, গ্রেপ্তার শফিক নজরুল রিমান্ডে
ফেসবুকে ‘ল ডক্টর (LAW DOCTOR)’ নামে পেজ খুলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় নিশ্চিত পাসের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মো. শফিক নজরুলকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের এস আই আব্দুল্লাহ আল মামুনের আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিন শুনানিতে আদালতকে তিনি বলেন, বার কাউন্সিল পরীক্ষা ও সরকারকে বিতর্কিত করার জন্য বিতর্কিত করার জন্য এই আসামি সব সময় চেষ্টা চালিয়ে গেছে। তার এই চটকদারি বিজ্ঞাপনের আড়ালে নানা রকম অনিয়ম ও প্রশ্ন বাণিজ্য রয়েছে। তাকে রিমান্ডে নিলে আদ্যোপান্ত আরো তথ্য জানা যাবে মামলার তদন্তের স্বার্থে।
এসময় আদালতের অনুমতি নিয়ে আসামি শফিক নজরুল বলেন, আমি জড়িত না। সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন। কোথায় কার কাছ থেকে টাকা নিয়েছি প্রশ্ন বাবদ এটা কোথায় প্রমাণ নেই। কেউ কোনো প্রমাণ করতে পারবে না। আমি সাজেশন দিয়েছি পরীক্ষার আগে, ১০০টা প্রশ্নে ১০০টাই কমন পড়েছে। আমি একজন এক্সপার্ট। আমি কি সাজেশন দিতে পারবো না? এটা মিথ্যে মামলা। আমাকে অর্থ মামলায় গ্রেপ্তার করেছে কাল। তারপর বেধে রেখেছে। পুলিশের কি এই ক্ষমতা আছে?
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, মামলাটি দায়ের করেন খুরশীদ আলম। মামলায় বলা হয়, শফিক নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে "LAW DOCTOR" নামে একটি পেজ পরিচালনা করে বার কাউন্সিল পরীক্ষার্থীদের টার্গেট করতেন। ওই পেজে ‘১০০টি এমসিকিউ পড়লেই নিশ্চিত পাস’—এমন বিজ্ঞাপন প্রচার করে পরীক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা হতো।
অভিযোগ রয়েছে, এক ব্যবসায়ী পরীক্ষার্থী ওই বিজ্ঞাপন দেখে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে শফিক নজরুল নিজেকে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন। বিশ্বাস অর্জনের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেন।
পরে বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই ভুক্তভোগীর কাছে আট লাখ টাকা দাবি করেন। ডাচ-বাংলা ব্যাংক ও নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ধাপে ধাপে অন্তত চার লাখ পাঁচ হাজার টাকা গ্রহণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু গত ১২ জুন অনুষ্ঠিত বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষায় ভুক্তভোগী অকৃতকার্য হলে প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ শফিক নজরুলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। আবেদনে বলা হয়, আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারের সম্ভাবনা যাচাই, ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসের লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ, প্রতারণা চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
শুনানি শেষে পুলিশের আবেদনের আংশিক মঞ্জুর করে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম আসামি মো. শফিক নজরুলের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশ জানায় , একই কৌশলে তিনি আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আবুল হাশেমের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা, দিলরুবা আক্তার দিপার কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা, মোসা. মিন্টু হকের কাছ থেকে পাঁচ লাখ ৯০ হাজার টাকা, আব্দুল আউয়ালের কাছ থেকে আট লাখ টাকা এবং মো. সোহাগ মোল্লার কাছ থেকে চার লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে।
এছাড়া এদিন শেরে বাংলা থানার আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়েছে আদালত। মামলাটি দায়ের করেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আল এমরান। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে একই আদালত এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।
এই মামলার অভিযোগে বলা হয়, শেরেবাংলা নগরের একটি ফ্ল্যাটে Adomma Coaching Center পরিচালনার আড়ালে ‘ল ডক্টর’ পেজ ব্যবহার করে বার কাউন্সিল পরীক্ষার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রচার করা হতো। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে শেরেবাংলা নগর থানায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়।