১৭ জুন ২০২৬, ১৩:৪৫

শিশু আয়াত হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড

আদালতে অভিযুক্ত আসামি মো. আবীর   © সংগৃহীত

চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরো করার মামলায় প্রধান আসামি মো. আবীরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আবির আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, আসামি আবীর আলীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, আলামত উদ্ধার এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনায় আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মনে করেছেন। এর ভিত্তিতে আদালত আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নৃশংস, নির্মম এবং সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী। আদালতের মতে, এই অপরাধ ‘ক্রাইম পেট্রোল’ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে সংঘটিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: যুবদল নেতা পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে মারধর করে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগ

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন জানান, মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরবর্তীতে পরিবারের আবেদনের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছায়া তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে উঠে আসে, আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় তাদের বাসার ভাড়াটিয়া মো. আবির জড়িত ছিলেন। ২০২২ সালের ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হলে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পিবিআই সূত্র জানায়, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে সাগরপাড় ও খালের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।

তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে মো. আবিরের পাশাপাশি তার ১৭ বছর বয়সী এক বন্ধুকেও আসামি করা হয়। তবে তিনি কিশোর হওয়ায় তার বিচার পৃথকভাবে শিশু আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।