মিরপুরে বৃদ্ধা নুরুজাহান বেগমের মৃত্যু: সন্তানদের আইনি নোটিশ পাঠালেন আইনজীবী রাখি
রাজধানীর মিরপুরে একটি বাসায় মৃত্যুবরণ করা বৃদ্ধা নুরুজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় তার চার সন্তানকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন (রাখি) এ নোটিশ পাঠিয়েছেন। আজ বুধবার (৩ জুন) ওই বৃদ্ধার চার সন্তানকে উদ্দেশ্য করে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি।
আইনি নোটিশে বলা হয়, ঘটনাটি শুধু পরিবারের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; এটি প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার, পারিবারিক দায়িত্ববোধ, সামাজিক নৈতিকতা এবং আইনের শাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংবিধানের ১৫, ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ও জীবন-নিরাপত্তার যে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, সেই আলোকে প্রবীণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও পরিবারের যৌথ দায়িত্ব বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’-এর কথা উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, সন্তানদের ওপর পিতা-মাতার ভরণপোষণ, দেখভাল, পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
নোটিশে এই আইনজীবী মৃত নুরুজাহান বেগমের চার সন্তান - খুলনা সমুদ্র বন্দরের যুগ্মসচিব ড. এ কে এম আনিসুর রহমান, বুয়েট শিক্ষক অধ্যাপক ড. এ কে এম আশিকুর রহমান, কানাডা প্রবাসী কে এম আতিউর রহমান এবং স্কুল শিক্ষিক্স ফাতিমা নাসরিন সুলতানার কাছে সাত দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
তাদের কাছে এ আইনজীবী লিখিতভাবে জানতে চেয়েছেন নুরুজাহান বেগমের ভরণপোষণ, চিকিৎসা, পরিচর্যা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল; মৃত্যুর আগে তার সঙ্গে যোগাযোগ, খোঁজখবর ও দায়িত্ব পালনের বিবরণ কী ছিল; দীর্ঘ সময় তার একাকী অবস্থানের বিষয়ে তারা অবগত ছিলেন কি না; এবং দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে বলে দাবি করলে তার সমর্থনে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র কী। এ ছাড়া ঘটনার স্বাধীন তদন্তে সহযোগিতা করার বিষয়ে তাদের অবস্থানও জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ নোটিশে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষার স্বার্থে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং উচ্চ আদালতের নজরে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ বিবেচনা করা হবে।
নোটিশে এ আইনজীবী আরও বলেন, কোনো মা যদি জীবনের শেষ সময়ে নিঃসঙ্গতা ও অবহেলার মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন এবং মৃত্যুর পরও দীর্ঘ সময় তাঁর মরদেহ অযত্নে পড়ে থাকে, তবে তা শুধু একটি পরিবারের ব্যর্থতা নয়; বরং সমাজ ও জাতির বিবেকের কাছেও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
তবে নোটিশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এর উদ্দেশ্য কাউকে অপমান বা অপরাধী সাব্যস্ত করা নয়; বরং গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের প্রেক্ষাপটে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা চাওয়া।