যুগ্ম-সচিব ও বুয়েট শিক্ষকের মায়ের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চেয়ে রিট
রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরে একটি বাসা থেকে যুগ্ম সচিব ও বুয়েট শিক্ষকের মা নুরজাহান বেগমের পচা-গলা লাশ উদ্ধারের ঘটনা তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছে। রিটে ওই নারীর সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরীফ সরকার জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন।
রিটকারী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী বলেন, এই অমানবিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে, যাতে কমিশন ঘটনাটি তদন্ত করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। একই সঙ্গে মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সময় নির্ধারণের জন্য তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, একজন মানুষ মৃত্যুবরণ করার পর সাতদিন ধরে তার মরদেহ এরকম অমানবিকভাবে ঘরে পড়ে ছিল, কেউ তার খোঁজখবর নিলেন না। এই মৃত্যুটি অবহেলাজনিত কারণে হয়েছে কি না, সেটি একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তদন্ত করে আমাদের প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশগুলোর মতো বয়স্ক ও অচল নাগরিকদের জন্য সরকারিভাবে সেবিকা (নার্স) নিয়োগের বিধান বা প্রথা রয়েছে। বাংলাদেশের সমাজসেবা বা সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে এ ধরনের ব্যবস্থা প্রবর্তনের নির্দেশনাও রিটে চাওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে রিটটির ওপর শুনানি হতে পারে।
এর আগে, রবিবার (৩১ মে) ঢাকার মিরপুর-১১ নম্বরের একটি ফ্ল্যাট থেকে নূর জাহান বেগম নামের ওই বৃদ্ধার পচা-গলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানান, নূর জাহান বেগম যে ফ্ল্যাটে ছিলেন, সেটি তার স্কুলশিক্ষিকা মেয়ের বাসা। সেখানেই তিনি মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। তবে একই বাসায় থাকলেও মেয়ে মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি জানতেন না বা কাউকে জানাননি। পুরো ঘরটি ময়লা-আবর্জনায় নর্দমার মতো হয়ে ছিল।