১৩ মে ২০২৬, ১৪:৫৮

বিচারক অব্যাহতি দিলেও হাজিরা দিতে চান লতিফ সিদ্দিকী

আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী  © সংগৃহীত

রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জামিনে থাকা সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৩ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জুয়েল রানা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

জানা গেছে, শুনানির সময় লতিফ সিদ্দিকী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। শুনানি শেষে আদালত আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেন। এসময় বিচারকের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এভাবে বিচার ব্যবস্থা চলতে পারে না। গত ৬ মাসে আগে এই মামলায় আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। আজকে এই আদেশ দিলেন। আমি আদালতে আসব, হাজিরা দেব। আমার আসতে ভালো লাগে, অভ্যাস হয়ে গেছে।

এসময় বিচারকের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ছয় মাস আগে আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছিল, আজ আদেশ হলো। আদালতে আসতে আমার আপত্তি নেই, হাজিরা দেবো। এখন তো এটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।’

জবাবে বিচারক বলেন, সেটা আপনার ইচ্ছে। আদালত আপনার আবেদন মঞ্জুর করেছেন, তবে উপস্থিত হওয়া আপনার ব্যক্তিগত বিষয়।

লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবী গোলাম রাব্বানী বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি আইনে ২০৫ ধারায় এই মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। তবে লতিফ সিদ্দিকী আদালতকে বলেছেন, তিনি সশরীরে আদালতে এসে হাজিরা দেবেন। 

এর আগে, গত বছরের ১৬ নভেম্বর এ আবেদন করা হলেও সেদিন মামলার মূল নথি আদালতে উপস্থাপন না হওয়ায় শুনানি হয়নি। পরে বুধবার আদালত এ বিষয়ে আদেশ দেন। 

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। এছাড়া বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় এবং চিকিৎসাধীন থাকায় লতিফ সিদ্দিকীর নিয়মিত আদালতে উপস্থিত হওয়া কষ্টসাধ্য।

মামলাটিতে গত ২৯ আগস্ট আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, হাফিজুর রহমান কার্জন ও মো. আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ৬ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান লতিফ সিদ্দিকী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির প্রতিবাদে ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশের পর গত ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে একদল ব্যক্তি স্লোগান দিতে দিতে সভাস্থলে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে অবরুদ্ধ ও হেনস্তা করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ১৬ জনকে আটক করে পুলিশ।

ঘটনার পর শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আমিরুল ইসলাম সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন।