শাহবাগে গ্রেপ্তার ঢাবি ছাত্রলীগ নেতাসহ ২ জন একদিনের রিমান্ডে
রাজধানীর শাহবাগে নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারহান তানভীর নাছিফ ও তার সাথে থাকা মাইক্রোবাসচালক রুবেল মিয়াকে একদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (১১ মে) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক মনমথ হালদার আসামিদেরকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন,২ মে থেকে গ্রেপ্তার হয়ে এ মামলায় তারা কারাগারে ছিলেন। আজ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদেরকে রিমান্ডে পাঠানো হলো।
আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ফারহান তানভীর নাছিফ (২৪) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং স্যার এ এফ রহমান হলের ২০৯ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র। তিনি হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকার কর্তৃক ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পরও সংগঠনের কার্যক্রম সচল রাখতে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ মে শনিবার ভোর আনুমানিক ৬টা ১০ মিনিটে টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের সামনে নিষিদ্ধ সংগঠনের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে জড়ো হয়।
এ সময় তারা সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং 'কালো আইন' বাতিলের দাবিতে উসকানিমূলক স্লোগান দিচ্ছিল। খবর পেয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নাছিফ ও রুবেলকে একটি মাইক্রোবাসসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও ২০-২৫ জন পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক মো. মাইনুল ইসলাম বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন।
রিমান্ড আবেদন অনুযায়ী,সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে, মামলার ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য তাদেরকে রিমান্ডে পাঠানো প্রয়োজন।