১১ মে ২০২৬, ১১:০৭

গর্ভে থাকা শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

হাইকোর্ট  © ফাইল ছবি

অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা, প্রকাশ করা যাবে না। ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধ সংক্রান্ত এ রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১১ মে) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।

২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান একটি রিট আবেদন করেন। রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত। পরে ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। 

আদালত উল্লেখ করেন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কার্যক্রম আইনের মাধ্যমে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। এ নির্দেশনাকে ‘continuous mandamus’ হিসেবে ঘোষণা করেন আদালত, যাতে ভবিষ্যতে নির্দেশনার বাস্তবায়ন তদারকি করতে পারেন আদালত।

এতে বলা হয়েছে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা, সামাজিক ভারসাম্যহীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি। 

আরও পড়ুন: রেজিস্ট্রেশন করতে না পারা শিক্ষার্থীদের ফের সুযোগ দিল মাদ্রাসা বোর্ড

আদালত বলছেন, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন।পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিল বাংলাদেশ। শুধু গাইডলাইন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এ অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব না।

নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত শিশুর ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট সংরক্ষণ ও তদারকির জন্য কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকা প্রয়োজন। হাইকোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ৬ মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি ও হালনাগাদের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য ও নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।