০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৫৯

তনু হত্যা: ১০ বছর পর যে তিন জনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিল আদালত

সোহাগী জাহান তনু  © সংগৃহীত

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ১০ বছর পর তিন জনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সোমবার (৬ এপ্রিল) কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হক এ আদেশ দেন।

এর আগে, আজ সকালে আদালতে এই আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

জানা গেছে, জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক জাহাঙ্গীর আলমের ডিএনএ প্রোফাইল তনুর পোশাকে পাওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। তারা তিনজনই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই-ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, আগেই তনুর ব্যবহারের কিছু কাপড় থেকে ৩ জন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল করা হয়। এগুলো পরে আর ম্যাচিং করা হয়নি। তাই আজ আদালত বলেছে, সন্দেহভাজন ৩ জনের ডিএনএ টেস্ট করতে। 

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন আদালতে উপস্থিত হয়ে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডনে থাকার সময় বলেছিলেন বিএনপি ক্ষমতার আসল তনু হত্যার বিচার করবেন। আমি এখন প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে মেয়ে হত্যার বিচার চাইব। মেয়ের ছবি নিয়ে ঘুরছি। দেশের  সকল হত্যার বিচার হইলেও আমার তনুর কেন বিচার হবে না। গত ১০ বছর ধরে বিচারের আশায় তনুর মাকে নিয়ে যে যেখানে বলেছে ছুটে গিয়েছি। এখন আর পারছি না।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি।