০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৪০

আওয়ামী লীগ নেতাকে অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব, মনপুরা ইউএনওকে আদালতের শোকজ

ছমেদপুর বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ইনসেটে মো. আবু মুছা-মো. মাইনউদ্দিন  © টিডিসি সম্পাদিত

ভোলার মনপুরা উপজেলায় কর্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের উপজেলা শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মো. মাইনউদ্দিন মাস্টারকে অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ায় মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু মুছাকে শোকজ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে বিতর্কিত আদেশটি স্থগিত করে বিবাদীদের ৫ দিনের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ এক অফিস আদেশের মাধ্যমে বেআইনিভাবে মো. মাইনউদ্দিন মাস্টারকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং ৩ এপ্রিলের মধ্যে তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আদেশে বলা হয়। এ বিষয়ে গত ১ এপ্রিল ভোলার মনপুরা সিভিল জজ আদালতে একটি  মামলা দায়ের করা হয়। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সহকারী শিক্ষক মো. মাইনউদ্দিন মাস্টার পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা অবস্থায় তথ্য গোপন করে অনিয়মের মাধ্যমে ছমেদপুর বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী কাম্য যোগ্যতা না থাকায় স্বত্বেও তিনি একাধিক তৃতীয় বিভাগ/শ্রেণি নিয়ে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বেআইনিভাবে নিয়োগ নেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। 

এ ছাড়া নিয়োগের ফলাফল শিটের নম্বর কাঁটাছেড়া করে তাকে পাশ করানো হয়েছে বলেও মামলার বিবরণে জানা যায়। নিয়োগের পর থেকেই তিনি বিদ্যালয়ে শিক্ষায় পরিবেশ নষ্ট করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

এদিকে সরকার পরিবর্তনের পর সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান মো. মাইনউদ্দিনের নিয়োগ প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেন যা বর্তমানে ভোলা জেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক তদন্তাধীন রয়েছে। 

গত ৮ এপ্রিল-২০২৫ বিদ্যালয়ের বিদায়ী প্রধান শিক্ষকের সংবর্ধনা ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় মো. মাইনউদ্দিন মাস্টারকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিখন বনিক ওই দিনের সৃষ্ট বিষয়টি তদন্তে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসারকে পৃথক দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাদের পৃথক তদন্ত প্রতিবেদনে ওই ঘটনায় শিক্ষক মাইনউদ্দিনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে। এর প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
  
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে ইউএনও মো. আবু মুছা আকস্মিকভাবে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কমিটির অন্য সদস্যদের অবহিত না করে এবং কোন রেজুলেশন ছাড়াই এককভাবে সাময়িক বরখাস্তকৃত শিক্ষক মো. মাইনউদ্দিনকে স্বপদে বহালের দোহাই দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার এ আদেশ জারি করেন। এতে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং তারা আদালতে শরণাপন্ন হন। ফলে আদালত ইউএনওকে শোকজ করেন। 

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ডে অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তারা মাইনউদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি মনপুরার ইউএনও অবৈধ লেনদেনকে মাধ্যম হিসেবে মনে করছেন। এ বিষয়ে তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন। 

এ বিষয়ে জানতে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু মুছাকে একাধিকবার কল দিলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।