ঢাবিতে তোফাজ্জল হত্যা: আত্মসমর্পনের আবেদন করে পালালেন শিক্ষার্থী অনিক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে প্রায় দেড় বছর আগে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় নতুন পালাবদলের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদ কামাল অনিক আদালতে আত্মসমর্পণের আবেদন জমা দিয়ে পরে পালিয়ে যান। রবিবার অনিকের আইনজীবী ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে এ আবেদন করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী জানান, অনিকের সঙ্গে জামিনের আবেদনও জমা পড়ে। তবে শুনানিতে আসামি ও তার আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। পরে আইনজীবীর সঙ্গে ফোন যোগাযোগের চেষ্টা করেও কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি।
এ মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। এর মধ্যে কিছু আসামি কারাগারে, কিছু জামিনে, এবং বাকিরা পলাতক রয়েছে। ইতোমধ্যে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আসামিরা হলেন- জালাল মিয়া, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ, সুমন মিয়া, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ ও আশরাফ আলী মুন্সী।
তাদের মধ্যে আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ ও ওয়াজিবুল আলম জামিনে আছে। জালাল মিয়া, আল হোসেন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া কারাগারে রয়েছে। অপর ২২ আসামি পলাতক রয়েছে।
প্রসঙ্গত, মামলার মূল ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে, ফজলুল হক মুসলিম হলের অতিথি কক্ষে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তোফাজ্জলকে মারধরের আগে তাকে ভাত খাওয়ানো হয় এবং পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলাটি পরদিন শাহবাগ থানায় দায়ের হয় এবং দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তদন্তের পর পিবিআই গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলাটির পুনঃতদন্তের নির্দেশ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।