দশম বারের মতো পেছাল হাদি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল
ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ফের পিছিয়েছে। এ নিয়ে দশম বারের মতো পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ। অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২ এপ্রিল ধার্য করেছেন আদালত।
বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ দিন ধার্য করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমার দিন ছিল। তবে তা দিতে পারেনি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা। এর জেরে নতুন দিন ধার্য করা হয়।
জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা শরিফ ওসমান হাদি আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় তিনি হামলার শিকার হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে। হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। কিন্তু অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ।
গত ১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির দিন ধার্য ছিল। সেদিন আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিন সময় চান। আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করেন। ওইদিন ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি দাখিল করেছেন মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।
তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।
এদিকে চলতি সপ্তাহে ভারতের কলকাতা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি শুটার ফয়সাল ও আলমগীরকে। তাদের দেশে ফেরাতে চেষ্টা চালানোর কথা জানিয়েছে সরকার।