হত্যাচেষ্টা মামলায় বৈষম্যবিরোধী নেতা রিয়াদসহ চার জনের রিমান্ড আবেদন
রাজধানীর গুলশান থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদসহ চারজনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। আজ রবিবার (১ মার্চ) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক আরমান আলী এ আবেদন করেন। এ বিষয়ে আসামিদের উপস্থিতিতে আগামীকাল সোমবার শুনানি হবে।
এই মামলায় অন্য আসামিরা হলেন-প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. রিয়াদুল হাওলাদার, মো. আলিফ আহম্মেদ আশিক ও সায়েম শিকদার।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে এবং প্রাথমিক তদন্তেও মামলার ঘটনার বিষয়ে সত্যতা পাওয়া যায়। আসামিদের নাম-ঠিকানা পিসি/পিআর যাচাই করা হয়নি। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের পূর্ণ নাম-ঠিকানা ও আসামিদের অবস্থানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ এবং অভিযান পরিচালনার জন্য তাদের পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডের একান্ত প্রয়োজন।এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরদিন শুক্রবার গ্রেপ্তারের পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিদের সাথে ভুক্তভোগী নির্জন ও তার বন্ধুদের পূর্বশত্রুতা ছিল। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির চতুর্থ তলায় ৪১২ নম্বর রুমে সাক্ষাৎ হলে আসামিরা তাকে তাদের স্থায়ী ক্যাম্পাস এবং কনভোকেশনে অংশগ্রহণের জন্য বলেন।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. আনিসুর রহমানের সাথে পরামর্শ করার সময়ে আসামি রাজ্জাকের হুকুমে আসামি রিয়াদুল ও সায়েম চেয়ার দিয়ে তাকে আঘাত করেন। এতে তিনি পিঠে ও বুকে আঘাত পান।
আসামি রাজ্জাক সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মুখমণ্ডলে আঘাত করে। এতে তার নাকে লেগে নাকের উপরিভাগ কেটে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় তাকে এলোপাতারি মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুলা জখম করে। তখন তার বন্ধু-বান্ধব ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি শিক্ষকরা এগিয়ে এলে আসামিরা তাকে বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন। পরে গুলশান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের আটক করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নির্জন সরদার বাঁধন বাদী হয়ে রাজ্জাকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। এতে অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়।