০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৭

‘পরশু নয়, কালকেই লং মার্চ টু ঢাকা’— সাত শব্দেই বদলে গিয়েছিল ইতিহাস

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন  © সংগৃহীত

‘পরশু নয়, কালকেই লং মার্চ টু ঢাকা!’—মাত্র সাতটি শব্দ। কিন্তু এই সাত শব্দের আহ্বানই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় মোড় তৈরি করেছিল। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রাক্কালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের দেওয়া এই ঘোষণা দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।

মূলত ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনের সমন্বয়কেরা। তবে ৪ আগস্ট দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও সরকারি বাহিনীর গুলিতে বহু ছাত্র-জনতা নিহত হওয়ার পর আন্দোলনের নেতৃত্ব কর্মসূচির তারিখ একদিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

এরপর সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় জানান, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ৬ আগস্টের পরিবর্তে ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে তিনি সারাদেশের ছাত্র-জনতাকে পরদিনই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আহ্বান জানান।

বার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেছিলেন, আমাদের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ৬ আগস্ট থেকে পরিবর্তন করে ৫ আগস্ট করা হলো। অর্থাৎ আগামীকালই সারাদেশের ছাত্র-জনতাকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেছিলেন, আজ প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্র-জনতাকে খুন করেছে খুনি হাসিনা। চূড়ান্ত জবাব দেওয়ার সময় এসে গেছে। বিশেষ করে আশপাশের জেলাগুলো থেকে সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিয়ে সবাই ঢাকায় আসবেন এবং যারা পারবেন আজই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান। ঢাকায় এসে মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা রাজপথগুলোতে অবস্থান নিন।

আরেক বক্তব্যে তিনি বলেন, চূড়ান্ত লড়াই, এই ছাত্র-নাগরিক অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত স্বাক্ষর রাখার সময় এসে গেছে। ইতিহাসের অংশ হতে ঢাকায় আসুন সকলে। যে যেভাবে পারেন কালকের মধ্যে ঢাকায় চলে আসুন। ছাত্র-জনতা এক নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটাবো।

পরে সমন্বয়ক সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়াসহ আন্দোলনের অন্য নেতারাও ‘পরশু নয়, কালকেই লং মার্চ টু ঢাকা’ বার্তাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন এবং ভিডিও বার্তার মাধ্যমে একই আহ্বান জানান।

এর পরদিন, ৫ আগস্ট, লাখো ছাত্র-জনতা ঢাকায় সমবেত হন। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। ছাত্র-জনতা এই ঘটনাকে ‘স্বৈরাচারের পতন’ এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেন।