‘আজ আমার বিয়ে, যার সবচেয়ে বেশি আনন্দ করার কথা ছিল, সে কবরে শুয়ে আছে’
বিয়ে করেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রায়েরবাজারে পুলিশের গুলিতে শহীদ সরকারি মোহম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাত্র মাহামুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ শাবন্তী। আজ শুক্রবার (৮ মে) ছোটবেলার বন্ধুকে বিয়ে করেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে আনন্দঘন দিনটিতে শহীদ সৈকতকে ভুলেননি জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের এই নির্বাহী সদস্য।
শুক্রবার এক ফেসবুক পোস্টে এসব কথা জানিয়েছেন শাবন্তী নিজেই। এদিন ভাইয়ের কবর জিয়ারতও করেছেন তিনি। মেহেদিমাখা হাতে ভাইয়ের কবর স্পর্শ করে একটি ছবিও শেয়ার করেছেন ফেসবুকে। সাবরিনা আফরোজ শাবন্তী লিখেছেন, আজ আমার বিয়ে। আমার বিয়েতে যার সবচেয়ে বেশি আনন্দ করার কথা ছিলো, যার এই দিনটাতে সবচেয়ে বেশি দ্বায়িত্ব পালন করার কথা ছিলো, সেই আমার একমাত্র ভাই কবরে শুয়ে আছে।
তিনি লিখেছেন, ওরে ছাড়া আমাদের জীবনের ভালো দিনগুলো কাটাতে হচ্ছে, কোনোমতে আরকি। আরশের মালিকের কাছে আমার ভাইয়ের হত্যার বিচারের ভারটা তুলে দিলাম। আমার এবং আমার ভাই শহিদ মাহামুদুর রহমান সৈকত এর জন্য সবাই দোয়া করবেন। স্বামীর পরিচয় সম্পর্কে শাবন্তী লিখেছেন, আমার হাসবেন্ড খুবই সাধারণ একজন মানুষ, আমার ছোট বেলার বন্ধু, ১০ বছরের পরিচিত।
আরও পড়ুন: ‘গতবছর এই দিনে জানলাম তুই মরে গেছিস! তোর কি মরার বয়স হইছে?’— শহীদ সৈকতকে তার বোন
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূচনালগ্নে ১৯ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুরের নূর জাহান রোডে শহীদ মাহামুদুর রহমান সৈকত বাবার অনুপস্থিতিতে ব্যবসায় সময় দিচ্ছিলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত বিবেচনা করে সৈকতের পিতা মাহাবুবের রহমান তাকে ফোন করে বাসায় ফিরে আসার নির্দেশ দেন যেন মাহামুদুর রহমান আন্দোলনের ঝুঁকি এড়িয়ে নিরাপদে থাকতে পারেন। কিন্তু সৈকত তার বাবাকে জানান যে, তিনি তার বন্ধুদের সাহায্য করতে যাবেন, কারণ তার এক বন্ধু আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
তবে মুঠোফোনে কথা বলার কিছুক্ষণ পরেই তার বাবার কাছে একটি মর্মান্তিক ফোনকল আসে। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে জানানো হয়, ‘আপনার ছেলে রায়েরবাজারে পুলিশের একটি গুলিতে মাথায় আঘাত পেয়েছে। গুলি তার মাথার সামনের দিকে বিদ্ধ হয়ে বেরিয়ে যায়।’
১৯ জুলাই বিকেল ৩টা ৩৭ মিনিটে নূরজাহান রোডে শহীদ সৈকত গুলিবিদ্ধ হন। আন্দোলনকারীরা তাকে দ্রুত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের মাথার মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। গভীর শোক ও ব্যথার মধ্যে দিয়ে তার দাফন সম্পন্ন হয় মোহাম্মদপুর তাজমহল রোডস্থ কবরস্থানে। শহীদ হওয়ার সময় এইচএসসি উত্তীর্ণ ছিলেন।