২৯ মার্চ ২০২৬, ১২:২০

চিকিৎসা-সংসার-সন্তান নিয়ে বিপদে জুলাইয়ে গুলিবিদ্ধ শাবিপ্রবির সজীব, চান কর্মসংস্থানের সুযোগ

গণ-অভ্যুত্থানে আহত শরীফ সজীব  © সংগৃহীত

২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে দেশের জন্য রাজপথে নেমেছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নবাব শরীফ সজীব। সেই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তার জীবন এখন এক অনিশ্চিত লড়াইয়ের নাম। ১৩ মাস বয়সী সন্তান, স্ত্রী এবং নিজের চিকিৎসা খরচ মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন এই অকুতোভয় তরুণ।

আন্দোলনে হাতে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর অস্ত্রোপচার করে তা বের করা হলেও স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন সজীব। তিনি জানান, ‘হাতের যন্ত্রণার কারণে এখন আর আগের মতো স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারি না। এমনকি হাত দিয়ে মাখিয়ে ভাত খেতেও কষ্ট হয়। ভারী কোনো কাজ করা বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লিখে যাওয়া এখন আমার পক্ষে অসম্ভব।’ শারীরিক এই সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি স্নাতকোত্তরেও ভর্তি হতে পারেননি।

সরকারের গেজেটে প্রথমে ‘সি’ এবং পরে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত হয়েছেন সজীব। নিয়মিত ভাতা ও এককালীন কিছু অর্থ পেলেও বর্তমান বাজারমূল্যে এক সন্তান ও পরিবারের খরচ চালাতে তাকে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে। আগে সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চাকরি করলেও অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে সেখানে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন তিনি।

বর্তমানে সজীবের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তার চিকিৎসা ও পরিবারের ভরণপোষণ। নিয়মিত থেরাপি নিলে হয়তো হাতটি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে, কিন্তু তার জন্য বিভাগীয় শহরে থাকা এবং বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন। এমতাবস্থায় সজীব নিজের বিশ্ববিদ্যালয়েই একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বেসরকারি চাকরি করা এখন আমার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়েই একটি সুযোগের অপেক্ষায় আছি। আমার ভবিষ্যৎ চিকিৎসা ও পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য একটি কর্মসংস্থান এখন অতি জরুরি।’

দেশমাতৃকার টানে জীবন বাজি রাখা এই মেধাবী শিক্ষার্থী এখন তাকিয়ে আছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের সহমর্মিতার দিকে। একটি টেকসই কর্মসংস্থানই পারে তার এবং তার ১৩ মাস বয়সী সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।