ভাইভা শুরুর আগে যা করবেন, যা করবেন না
চাকরির ভাইভায় ভালো করতে হলে শুধু দীর্ঘদিনের প্রস্তুতিই যথেষ্ট নয়, ভাইভার ঠিক আগের সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শেষ এক ঘণ্টায় কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন এবং কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবেন এসব বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
এ সময় নতুন কিছু পড়ার চেয়ে আগে থেকে প্রস্তুত করা বিষয়গুলো ঝালিয়ে নেওয়া এবং নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করাই বেশি কার্যকর।
১. নিজের পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য ঝালিয়ে নিন
নিজের নাম, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কোন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, নিজের জেলা ও উপজেলা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং আগে কোথাও কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে তা মনে করুন। পাশাপাশি কেন এই চাকরিতে আবেদন করেছেন, সেটিও পরিষ্কারভাবে ভেবে নিন।
২. প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা নিন
যে প্রতিষ্ঠানে ভাইভা দিতে যাচ্ছেন, সেটির প্রধান কাজ কী, কোন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অধীন, প্রধান কার্যালয় কোথায় এবং প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কী—এসব বিষয় মনে করে নিন।
৩. পদের দায়িত্ব সম্পর্কে প্রস্তুত থাকুন
যে পদে আবেদন করেছেন, সেই পদের দায়িত্ব ও কাজ সম্পর্কে মৌলিক ধারণা থাকা জরুরি। যেমন, অফিস সহকারী পদে আবেদন করলে কম্পিউটার, টাইপিং, অফিসের নথিপত্র ও চিঠিপত্র সংক্রান্ত মৌলিক বিষয়গুলো ঝালিয়ে নিতে পারেন।
৪. সাধারণ প্রশ্নের উত্তর প্রস্তুত করুন
ভাইভায় প্রায়ই কিছু সাধারণ প্রশ্ন করা হয়। যেমন: নিজের সম্পর্কে বলুন, এই চাকরিতে আসতে চান কেন, আপনার শক্তি ও দুর্বলতা কী, আপনাকে কেন নিয়োগ দেওয়া উচিত, আপনার জেলার বিশেষত্ব কী এবং আপনার পড়াশোনার বিষয়টি এই চাকরিতে কীভাবে কাজে লাগবে। এসব প্রশ্নের উত্তর নিজের মতো করে ভেবে রাখুন।
৫. পোশাক ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করুন
ভাইভা কক্ষে প্রবেশের আগে প্রবেশপত্র, শিক্ষাগত সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কলম, প্রয়োজনীয় ছবি এবং ফাইল বা ফোল্ডার ঠিক আছে কি না দেখে নিন। পোশাক হতে হবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও মার্জিত।
৬. নিজেকে শান্ত রাখুন
ভাইভার আগে নতুন কোনো কঠিন বিষয় পড়ার চেষ্টা না করাই ভালো। কয়েকবার ধীরে ধীরে শ্বাস নিন, পানি পান করুন এবং নিজেকে স্বাভাবিক রাখুন। মনে রাখবেন, ভাইভায় সব প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি নয়। আত্মবিশ্বাস, ভদ্রতা, সততা ও পরিষ্কারভাবে কথা বলাও গুরুত্বপূর্ণ।
আরও দেখুন: ৩৬ ক্যাম্পাসে প্রতিনিধি নিয়োগ দেবে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি টিপস
১. উত্তর না জানলে অনুমান করে ভুল তথ্য দেবেন না। বলতে পারেন, দুঃখিত স্যার/ম্যাডাম, এই মুহূর্তে তথ্যটি মনে পড়ছে না।
২. প্রশ্নকর্তার প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগে উত্তর শুরু করবেন না।
৩. অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৪. প্রশ্নকর্তার চোখের দিকে স্বাভাবিকভাবে তাকিয়ে কথা বলুন।
৫. ভয় পেয়ে মুখস্থ উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে স্বাভাবিকভাবে কথা বলুন।
ভাইভার শেষ মুহূর্তে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা এবং নিজের প্রস্তুতির ওপর ভরসা রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শেষ এক ঘণ্টায় নতুন কিছু শেখার চেয়ে নিজের পরিচয়, প্রতিষ্ঠান ও পদের বিষয়গুলো ঝালিয়ে নিয়ে শান্ত ও স্বাভাবিক থাকলে ভাইভা ভালো দেওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।