শুধু ডিগ্রি থাকলেই মিলবে না চাকরি, বদলে যাচ্ছে নিয়োগের মানদণ্ড
চাকরির বাজার দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ভালো ফল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকলেই আর কাঙ্ক্ষিত চাকরি নিশ্চিত হচ্ছে না। নিয়োগদাতারা এখন শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি গুরুত্ব দিচ্ছেন যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণ, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং বাস্তব কর্ম অভিজ্ঞতার মতো দক্ষতাকে। তাই শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই কর্মদক্ষতা বা ‘এমপ্লয়েবিলিটি স্কিল’ গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাখো শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করেন। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় শুধু ডিগ্রি বা ভালো সিজিপিএ চাকরির নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। একজন প্রার্থী বাস্তব কর্মপরিবেশে কতটা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, সেটিই এখন নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, বিমান চলাচল, হসপিটালিটি, রিটেইলসহ প্রায় সব খাতেই নিয়োগের সময় কর্মদক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একজন চাকরিপ্রার্থীর যোগাযোগ দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা, নেতৃত্বের গুণ, সময় ব্যবস্থাপনা, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এসবই এখন নিয়োগদাতাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এনআইপিএস স্কুল অব হোটেল ম্যানেজমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. বিবেক পাঠক জানান, একটি ডিগ্রি হয়ত একজন প্রার্থীকে সাক্ষাৎকারের সুযোগ এনে দিতে পারে, কিন্তু সেই সুযোগকে সফল ক্যারিয়ারে রূপ দিতে প্রয়োজন বাস্তব কর্মদক্ষতা। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব শুধু সনদ প্রদান নয়, কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষ পেশাজীবী গড়ে তোলাও।
এ কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি উপমহাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠানও এখন শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ, শিল্পখাতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজের সুযোগ এবং ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই কর্মজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান এবং কর্মক্ষেত্রে দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নিতে সক্ষম হন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ করে হসপিটালিটি শিক্ষায় বাস্তব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টিমওয়ার্ক, গ্রাহকসেবা, সংকট মোকাবিলা, নেতৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা গড়ে ওঠে। তবে এসব দক্ষতা শুধু হোটেল শিল্পেই সীমাবদ্ধ নয়; বিমান পরিবহন, পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা, বিলাসবহুল ব্র্যান্ড, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতেও সমানভাবে মূল্যায়িত হয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অটোমেশনের দ্রুত বিস্তারের এই সময়ে শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞান যথেষ্ট নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সৃজনশীল চিন্তা, কার্যকর যোগাযোগ, আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা, সমন্বয় করার সক্ষমতা এবং পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো মানবিক দক্ষতাই একজন কর্মীকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রাখবে।
তাই উচ্চশিক্ষার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার সময় শুধু ডিগ্রি, অবকাঠামো বা কোর্স ফি নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মদক্ষতা গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম