২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:১৮

ক্যাম্পাস থেকেই শুরু হোক সফল ক্যারিয়ারের প্রস্তুতি

ক্যাম্পাসে গ্রুপ ডিসকাশন করছেন শিক্ষার্থীরা  © এআই সম্পাদিত ছবি

বর্তমান চাকরির বাজারে ভালো ফলাফল বা আকর্ষণীয় সিভি থাকাই যথেষ্ট নয়। নিয়োগকর্তারা এখন প্রার্থীর দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও পেশাদার পরিচয় যাচাইয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন অনলাইন প্রোফাইলকে। আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উঠে এসেছে লিংকডইন। তাই চাকরি খোঁজার সময় নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিং শুরু করা উচিত।

বিশ্বজুড়ে লিংকডইনের ব্যবহারকারী সংখ্যা ৫০ কোটিরও বেশি। এর মধ্যে চার কোটির বেশি ব্যবহারকারী শিক্ষার্থী বা সদ্য স্নাতক। ফলে প্রতিযোগিতা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগও।

নিয়োগে বাড়ছে লিংকডইনের গুরুত্ব
বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭৫ শতাংশ নিয়োগকর্তা প্রার্থী যাচাইয়ের সময় লিংকডইন প্রোফাইল পর্যালোচনা করেন। এছাড়া ৭৩ শতাংশের বেশি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এটিকে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। নতুন প্রার্থী খোঁজা এবং প্রাথমিক বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও ৬৭ শতাংশের বেশি প্রতিষ্ঠান এখন লিংকডইনের ওপর নির্ভরশীল।

শুধু সিভি নয়, নিয়োগকর্তারা একজন প্রার্থীর দক্ষতা, কাজের ধরন, বিভিন্ন কার্যক্রম, পেশাগত যোগাযোগ এবং নিজেকে উপস্থাপনের সক্ষমতাও লিংকডইনের মাধ্যমে মূল্যায়ন করেন।

নিউইয়র্কভিত্তিক ক্যারিয়ার উন্নয়ন পরামর্শক অ্যালিসন চেস্টনের মতে, শিক্ষার্থী সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য জানতে নিয়োগকর্তারা প্রথমেই লিংকডইন প্রোফাইল দেখেন। ক্যাম্পাসওয়েলের এক জরিপে ৭১ শতাংশের বেশি উত্তরদাতা লিংকডইনকে সবচেয়ে কার্যকর প্রফেশনাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আরও পড়ুন: নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে রূপায়ন গ্রুপ

ক্যাম্পাস থেকেই শুরু করা কেন জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্নাতক শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই লিংকডইন প্রোফাইল তৈরি করা উচিত। এটি একটি জীবন্ত সিভির মতো কাজ করে, যেখানে সময়ের সঙ্গে নতুন দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও অর্জন যুক্ত করা যায়।

টেক্সাস ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জোশুয়ার অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, লিংকডইন সহপাঠী ও করপোরেট জগতের পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির সহজ মাধ্যম। একইভাবে ওয়েক টেকনিক্যাল কমিউনিটি কলেজের শিক্ষার্থী আনালিসা মনে করেন, দক্ষতা তুলে ধরা এবং চাকরির তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পেশাজীবীদের প্রোফাইল দেখে জানা যায়, তারা কীভাবে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন, কোন দক্ষতা অর্জন করেছেন এবং কী ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। এতে নিজের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা আরও বাস্তবসম্মতভাবে সাজানো সম্ভব হয়।

শুধু প্রোফাইল নয়, সক্রিয় থাকাও গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রোফাইল তৈরি করলেই হবে না; নিয়মিত সক্রিয় থাকাও জরুরি। ওপেন টু ওয়ার্ক অপশন চালু রাখা, নিজের শেখা বা প্রকল্প নিয়ে নিয়মিত পোস্ট করা, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মন্তব্য করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে।

বাস্তব নেটওয়ার্কিংয়ের বিকল্প নেই
লিংকডইন একটি কার্যকর মাধ্যম হলেও বাস্তব জীবনের যোগাযোগ সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৮৫ শতাংশ চাকরি ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পূরণ হয়। আবার প্রায় ৭০ শতাংশ পদ কখনো প্রকাশ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশই করা হয় না; রেফারেন্সের মাধ্যমেই সেগুলো পূরণ করা হয়। এছাড়া নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেটওয়ার্কিং মানেই বড় কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়। শিক্ষক, সহপাঠী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী কিংবা অতিথি বক্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, ক্যারিয়ার সেন্টারের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, গবেষণা, কর্মশালা, জব ফেয়ার ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে যুক্ত হওয়াও কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের আফ্রিকায় পাঠানোর পরিকল্পনায় ইউরোপের পাঁচ দেশ

ধাপে ধাপে প্রস্তুতির পরামর্শ
যারা নতুন করে শুরু করতে চান, তাদের জন্য ৩০-৬০-৯০ দিনের একটি পরিকল্পনা অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞরা। প্রথম ৩০ দিনে লিংকডইন প্রোফাইল সম্পূর্ণ করা, পছন্দের প্রতিষ্ঠান ও পদের তালিকা তৈরি, নতুন পেশাগত যোগাযোগ বাড়ানো এবং তথ্যভিত্তিক ক্যারিয়ার আলোচনা করা যেতে পারে।

পরবর্তী ৩০ দিনে নিজের কোনো প্রকল্প বা অর্জন নিয়ে পোস্ট প্রকাশ, নতুন দক্ষতা অর্জনে অনলাইন কোর্স সম্পন্ন এবং নিয়মিত নতুন সংযোগ তৈরি করা উচিত। শেষ ৩০ দিনে লক্ষ্যভিত্তিক ইন্টার্নশিপ বা চাকরিতে আবেদন এবং আগের যোগাযোগগুলোর সঙ্গে নিজের অগ্রগতি ভাগ করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যারিয়ার গঠনের প্রস্তুতি শুরু হওয়া উচিত বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই। একটি পরিপূর্ণ লিংকডইন প্রোফাইল, নিয়মিত প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিং এবং ধারাবাহিক দক্ষতা উন্নয়ন এই তিনটির সমন্বয় একজন শিক্ষার্থীকে প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে অনেকটাই এগিয়ে রাখতে পারে।