০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪১

খুতবা না শুনলেও কি আদায় হবে জুমার নামাজ?

জুমার নামাজে খুতবা  © সংগৃহীত

মুমিনের জীবনে জুমার দিন কেবল একটি সাধারণ বার নয়, বরং ‘সাপ্তাহিক ঈদ’ হিসেবে পরিচিত। জুমার নামাজের খুতবা শুরু হওয়ার আগেই মসজিদে উপস্থিত হয়ে তা শোনা প্রত্যেক মুসল্লির কর্তব্য। তবে কোনো কারণে কেউ খুতবা শুনতে না পেরে ইমামের সঙ্গে জামাতে শরিক হলে তার জুমার নামাজ আদায় হবে। সে নামাজের সওয়াব পেলেও খুতবা শোনার সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে। বিনা প্রয়োজনে বা সাধারণ অজুহাতে খুতবা না শোনাকে নাজায়েজ বলা হয়েছে।

মুফতি সাইদুজ্জামান কাসেমি বলেন, জুমার নামাজে খুতবা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই প্রত্যেকের উচিত খুতবা শুরুর আগেই মসজিদে উপস্থিত হওয়া এবং মনোযোগ দিয়ে তা শোনা। বিনা প্রয়োজনে কিংবা সাধারণ অজুহাতে খুতবা শ্রবণ না করা নাজায়েজ।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে আগে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার আগে আসে, সে ওই ব্যক্তির মতো, যে একটি মোটাতাজা উট কোরবানি করে। এরপর যে আসে, সে ওই ব্যক্তির মতো, যে একটি গাভি কোরবানি করে। তারপর আগমনকারী একটি বকরি কোরবানি করার মতো সওয়াব পায়। এরপর আগমনকারী মুরগি দানকারীর মতো এবং তার পরেরজন একটি ডিম দানকারীর মতো সওয়াব পায়। ইমাম যখন বের হন, তখন ফেরেশতারা তাঁদের দফতর বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনতে থাকেন। (সহিহ বুখারির ৮৮২ নম্বর হাদিস) 

এ হাদিসের ব্যাখ্যায় উত্তরে বলা হয়েছে, জুমার দিন মসজিদে আগে আগে উপস্থিত হওয়া উত্তম। এটি হানাফি মাজহাবের মত হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

খুতবা না শুনলে নামাজের বিধান
মুফতি সাইদুজ্জামান কাসেমি বলেন, কেউ যদি খুতবা শোনার সুযোগ না পায়, কিন্তু ইমামের সঙ্গে জামাতে শরিক হয়, তাহলে সে জুমার নামাজ পেয়েছে বলে গণ্য হবে। তার নামাজ আদায় হবে এবং নামাজের সওয়াবও পাবে। তবে খুতবা শোনার সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে। অর্থাৎ, খুতবা শোনার সুযোগ না হওয়া এবং ইমামের সঙ্গে জুমার জামাতে শরিক হওয়া—দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। খুতবা না শোনার কারণে জামাতে আদায় করা জুমার নামাজ বাতিল হয়ে যায় না। তবে বিনা প্রয়োজনে খুতবা বাদ দেওয়া থেকে বিরত থাকা এবং যথাসময়ে মসজিদে উপস্থিত হয়ে খুতবা শোনা উচিত।